পোস্টগুলি

একদিন সব হারানোর বিনিময়ে ভালোকিছু পাওয়া হোক

আমরা মানুষ হারাই, না চাইতেও হারাই, কারণে অকারণে হারাই। কেউ আমাদের ছেড়ে চলে যায় তো, আমরা কাউকে ছেড়ে চলে আসি। ভেবে অবাক হই, যে মানুষটা অনেকের আকাঙ্ক্ষার সেই প্রিয় মানুষ, অথচ এই মানুষটাকেও কেউ একজন কোনো একদিন ছেড়ে চলে গিয়েছে! কেউ অসম্ভব ভালোবেসে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায় তো, কেউ ভীষণ অযত্নে অবহেলা দিয়ে প্রমাণ করে দেয় যে, দুনিয়াবি চাহিদার কাছে সম্পর্ক কিছুই না। একদিন এই মানুষগুলো মনে পাথর বেঁধে বাঁচতে শিখে যায়। নিজের চারপাশে পাথরের এক প্রাচীর তৈরি করে ফেলে। যে অদৃশ্য প্রাচীরের বাইরে সকল বিশ্বাস, ভালোবাসা আর আবেগের ঠাঁই হয়। এই প্রাচীরের ভেতর কেবল অনুভূতি শূন্য যান্ত্রিক একটা মানুষের বসবাস। পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানের দাগ দেখে এক্সিডেন্টের সিভারিটি বুঝে ফেলা যায় কিন্তু আফসোসের বিষয়, তেমনিভাবে এই মানুষগুলোর ক্ষতস্থান দেখাও যায় না, সিভারিটিও বুঝা যায় না!  একদিন সব হারানোর বিনিময়ে ভালোকিছু পাওয়া হোক। সব শূন্যতা ভরে উঠুক পূর্ণতায়। পাথরের প্রাচীরে ফুল ফুটুক, সূচনা হোক নতুনত্বের। বিদাতার উপর নতুন করে আস্থা জন্মাক এদের। এতোটা খুশি হয়ে উঠুক যাতে নিজের অজান্তেই বলে ওঠে, " স্রষ্টা যা করে ভালোর জন্যই করে...

Monologue-24

বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছি। বাস একদম খালি, ছাড়তে নাকি দেরি হবে। ৫ মিনিট পর আরেকটা বাস ছাড়বে। ওইটা এসি। এসিতে উঠবো কি উঠবো না, দ্বিধাদ্বন্দে আছি। খোলা জানালার পাশে বসে বাতাসের সাথে শীতের কুয়াশার আবাসটা মিস করবো বদ্ধ এই এসি বাসে ওঠলে। অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে নন এসির একদম ড্রাইভার মামার পেছনের সিটের টিকেট কাটলাম। টিকেট নাম্বার-৪, একদম জানালার পাশে। যেহেতু আমিই প্রথম যাত্রী, তার উপর তিশা প্লাস। তারমানে বাস ছাড়তে অনেক দেরি। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলছে, সময় হলেও যাত্রী না হলে বাস ছাড়বে না উনারা। সময় কাটানোর জন্য অগত্যা ব্যাগ থেকে, " The Art of Reading Mind" বইটা নিয়ে পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।  একে একে যাত্রী ওঠতে শুরু করলো। সবাইকে কন্ডাক্টর ভাই বেশ জোড় গলায় বলছে,"শেষ ট্রিপ। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে দিবে তাড়াতাড়ি উঠেন"। ঘড়ির দিকে তাকালাম, প্রায় ৩০ মিনিটের উপর হয়ে গিয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময় আরো ১০ মিনিট আগে পার হয়ে গিয়েছে। বিরক্তি লুকানোর জন্য বইয়ের সূচিপত্রে গিয়ে ইন্টারেস্টিং চ্যাপ্টার খোঁজা শুরু করেছি৷  কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বেশ চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। সবাই বেশ রাগ ঝাড়ছে, নির...

Monologue-23

কনফারেন্সের লাঞ্চ ব্রেক। তীব্র ক্লান্তি আর চরম পিপাসা নিয়ে জাদুঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়েই যাচ্ছি। এটা নিয়ে চার নাম্বার কাপ শেষ হলো। ঘুম আর ক্লান্তি কেটে গেলেও পিপাসা কাটছে না কোনোভাবেই। ক্যান্টিন থেকে ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল খালি করে ফেললাম। তারপরও পিপাসা কাটছে না যেন! অবশেষে অনেকটা জোর করে কনফারেন্স রুমে গিয়ে বসলাম৷ স্পিকাররা একজনের পর একজন আসছেন আর লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন। মস্তিষ্ক লেকচারগুলোর নোট নিচ্ছে আর এই দিকে মন কোথায় যেন পড়ে আছে। মন চাচ্ছে কফির কাপ নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই শহরটাকে দেখতে। হঠাৎ করে এই যান্ত্রিক শহর আমার ভালো লাগছে কেন, আমি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি এখন। অথচ এই শহর ছিল আমার অপছন্দের লিস্টে প্রথম শহর। যে শহরে আসলে আমার হাসফাস লাগতো, সে শহরের প্রতি হঠাৎ তীব্র একটা টান অনুভব করছি যেন! ধুলোবালির এই শহরের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কেমন যেন এক  স্নিগ্ধতা, যা কখনো-ই আমি আগে টের পাইনি। কনফারেন্সে শেষ হতে হতে রাত হয়ে গিয়েছে প্রায়।  বের হয়ে ফুটপাত ধরে হাটছি। শহর ছাড়ার সময় হয়ে ওঠেছে, এবার বিদায় নেওয়ার পালা! খালি পায়ে পুরো শহ...

পূর্ণিমার আলো

পূর্ণিমার আলোয় এক ধরনের বিষাদগ্রস্ততা কাজ করে। আবছায়া এই আলো- আঁধারির খেলায় কত-শত স্মৃতিরা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায়, পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে গোল হয়ে আড্ডা দেওয়ার দিনগুলি। মনে পড়ে, লোডশেডিংয়ের রাতে হারিকেনের আলোয় পড়তে বসে পূর্ণিমার আলোয় বের হতে না পারার আফসোসের সেই দিনগুলি। দুপাশের ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া গ্রামের সেই রাস্তাটায় পূর্ণিমার আলোয় নিজের ছায়াটার সাথে হেঁটে চলার সেই দিনগুলি বড্ড বেশি স্মৃতিকাতর করে তুলে।  ছোটবেলায় এই পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে ফিনিক্স পাখির গল্প শুনতাম আর ভাবতাম, "পূর্ণিমার আলো থেকেও কেন ফিনিক্স পাখি জন্মায় না? তাহলে তো আরো শক্তিশালী হতো এরা, নাকি জন্মায় অন্যকোনো রূপে অন্যকোনো উপায়ে?"। কি এক অদ্ভুত সুন্দর ছিলো সেদিনগুলো! এখন আর তেমন পূর্ণিমা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। ব্যস্ততা আর শহররে চটকদার আলো, ভেতর ভেতর বড্ড বেশি যান্ত্রিক করে দিচ্ছে ।  একদিন খুব আয়োজন করে পূর্ণিমা বিলাস করবো। গ্রামের সেই ছোট্ট ব্রীজটায় দাঁড়িয়ে খুব করে সেই আলো লুফে নিবো। ছাদের কোনো এক কার্ণিশে দাঁড়িয়ে একহাতে কফির মগ আরেক হাতে পুরোনো ডায়রির পাতার পুরাতন কোনো কবিতার লাইন সেই আব...

বড় হওয়া থেকে অভিজ্ঞতায় বড় হওয়া মানুষগুলোর সান্নিধ্য পাওয়া, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা গুরুত্বপূর্ণ

বড় কাকা-কাকী আমাকে প্রায়ই একটা কথা বলে, "নিজের থেকে বয়সে বড় মানুষদের সাথে মিশবা, তাদের সাথে কথা বলবা, পারলে ফ্রেন্ডশিপ করবা। কারণ এরা তোমার থেকে বেশিদিন দুনিয়া দেখেছে। তুমি এখন যেই বয়সে আছো, তারা সেই বয়স পার করে এসেছে। এরা বুঝবে তোমার সিচুয়েশন।"  প্রথম প্রথম তেমন সিরিয়াসলি নিতাম না কথাগুলো। কলেজ লাইফের পর জীবনে যখন পরপর কয়েকটা ধাক্কা আসে, যখন নিজের কথাগুলো বলার মতো আশেপাশে কোনো বন্ধু পেতাম না, তখন হারে হারে টের পাচ্ছিলাম উনাদের বলা সেই কথাগুলো। একইসাথে ঘুরি, একই ক্লাসে বসে পড়াশোনা করি কিন্তু দু'জনের দেখা দুনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন, মতামত ভিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর তেমন করে কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়নি ভার্সিটি লাইফে। যে ক'জন বন্ধু হয়েছে, তাদের সাথে কোনো না কোনোভাবে আমার ফিলোসোফি কানেক্টেড।  এরপর রিকশাওয়ালা মামা, ফুটপাতে ফুল বিক্রি করা ছোট্ট ছেলে, ট্রেনে, বাসে যেখানেই কারো ইন্টারেস্ট দেখেছি, কথা বলার চেষ্টা করেছি। কারো সাথে অল্প সময়ে বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দশ মিনিটের পরিচয়ে কারো দেওয়া উপদেশ এখনো উপকারে আসছে আমার।  ফুটপাতে বসে ফুল বিক্রি করা ছেলেটাকে যখন প্রশ্ন করতাম, "এই ...

একটা মানুষকে কেন আপনারা ১৬ আনায় judge করতে যাবেন?

নিউজফিডটা ইদানীং জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। আয়মান সাদিক- মুনজেরিন শহীদ, তানজিম সাকিব উনাদের ইস্যুতে গাঠনিক সমালোচনার নামে চলছে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি! এই বুদ্ধিজীবীদের জন্য নিউজফিডে আর ঢুকা যাচ্ছে না। দু'জন সেলিব্রিটি বিয়ে করেছে। তো এদের বিয়েতে আপনি কি আশা করেন? বোরকা পড়ে মসজিদে গিয়ে বিয়ে করবে? কবুল বলে বউকে ঘরে বসিয়ে রাখবে? ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে ঘরের বাইরে যেতে দিবে না? আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ, যাদের কাজই হলো অন ক্যামেরায় এসে প্রমোট করা, সেটা জ্ঞানই হোক কিংবা লাইফস্টাইল। আর এখন বিয়ে করে অন ক্যামেরায় এসে নাচলেই দোষ। আয়মান সাদিকের দোষ একটাই। মসজিদে বিয়ে করে আবেগী বাঙ্গালীকে  ধর্মীয় ক্যাপশন দিয়ে দিয়ে পোস্ট করালো, এরপর প্রোগ্রামের নাচা-নাচির ভিডিও পোস্ট করে দিলো এদের বিপাকে ফেলে! তারপর এই জনতা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা শুরু করলো। এখন তো নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঠেকাতে ডিফেন্সিভ কার্ড প্লে করতে হবে তাদের। এই শুরু হলো হাদিস-কুরআনে মোড়ানো সেই জ্বালাময়ী যুক্তির নামে কপটতা! আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ উনাদের কাউকেই দেখিনি মসজিদে বিয়ে করেছে বলে নিজেদের ধার্মিক পরিচয় দিতে কিংবা ক্যাপশনে হাদিস লিখ...