পোস্টগুলি

পূর্ণিমার আলো

পূর্ণিমার আলোয় এক ধরনের বিষাদগ্রস্ততা কাজ করে। আবছায়া এই আলো- আঁধারির খেলায় কত-শত স্মৃতিরা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায়, পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে গোল হয়ে আড্ডা দেওয়ার দিনগুলি। মনে পড়ে, লোডশেডিংয়ের রাতে হারিকেনের আলোয় পড়তে বসে পূর্ণিমার আলোয় বের হতে না পারার আফসোসের সেই দিনগুলি। দুপাশের ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া গ্রামের সেই রাস্তাটায় পূর্ণিমার আলোয় নিজের ছায়াটার সাথে হেঁটে চলার সেই দিনগুলি বড্ড বেশি স্মৃতিকাতর করে তুলে।  ছোটবেলায় এই পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে ফিনিক্স পাখির গল্প শুনতাম আর ভাবতাম, "পূর্ণিমার আলো থেকেও কেন ফিনিক্স পাখি জন্মায় না? তাহলে তো আরো শক্তিশালী হতো এরা, নাকি জন্মায় অন্যকোনো রূপে অন্যকোনো উপায়ে?"। কি এক অদ্ভুত সুন্দর ছিলো সেদিনগুলো! এখন আর তেমন পূর্ণিমা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। ব্যস্ততা আর শহররে চটকদার আলো, ভেতর ভেতর বড্ড বেশি যান্ত্রিক করে দিচ্ছে ।  একদিন খুব আয়োজন করে পূর্ণিমা বিলাস করবো। গ্রামের সেই ছোট্ট ব্রীজটায় দাঁড়িয়ে খুব করে সেই আলো লুফে নিবো। ছাদের কোনো এক কার্ণিশে দাঁড়িয়ে একহাতে কফির মগ আরেক হাতে পুরোনো ডায়রির পাতার পুরাতন কোনো কবিতার লাইন সেই আব...

বড় হওয়া থেকে অভিজ্ঞতায় বড় হওয়া মানুষগুলোর সান্নিধ্য পাওয়া, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা গুরুত্বপূর্ণ

বড় কাকা-কাকী আমাকে প্রায়ই একটা কথা বলে, "নিজের থেকে বয়সে বড় মানুষদের সাথে মিশবা, তাদের সাথে কথা বলবা, পারলে ফ্রেন্ডশিপ করবা। কারণ এরা তোমার থেকে বেশিদিন দুনিয়া দেখেছে। তুমি এখন যেই বয়সে আছো, তারা সেই বয়স পার করে এসেছে। এরা বুঝবে তোমার সিচুয়েশন।"  প্রথম প্রথম তেমন সিরিয়াসলি নিতাম না কথাগুলো। কলেজ লাইফের পর জীবনে যখন পরপর কয়েকটা ধাক্কা আসে, যখন নিজের কথাগুলো বলার মতো আশেপাশে কোনো বন্ধু পেতাম না, তখন হারে হারে টের পাচ্ছিলাম উনাদের বলা সেই কথাগুলো। একইসাথে ঘুরি, একই ক্লাসে বসে পড়াশোনা করি কিন্তু দু'জনের দেখা দুনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন, মতামত ভিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর তেমন করে কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়নি ভার্সিটি লাইফে। যে ক'জন বন্ধু হয়েছে, তাদের সাথে কোনো না কোনোভাবে আমার ফিলোসোফি কানেক্টেড।  এরপর রিকশাওয়ালা মামা, ফুটপাতে ফুল বিক্রি করা ছোট্ট ছেলে, ট্রেনে, বাসে যেখানেই কারো ইন্টারেস্ট দেখেছি, কথা বলার চেষ্টা করেছি। কারো সাথে অল্প সময়ে বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দশ মিনিটের পরিচয়ে কারো দেওয়া উপদেশ এখনো উপকারে আসছে আমার।  ফুটপাতে বসে ফুল বিক্রি করা ছেলেটাকে যখন প্রশ্ন করতাম, "এই ...

একটা মানুষকে কেন আপনারা ১৬ আনায় judge করতে যাবেন?

নিউজফিডটা ইদানীং জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। আয়মান সাদিক- মুনজেরিন শহীদ, তানজিম সাকিব উনাদের ইস্যুতে গাঠনিক সমালোচনার নামে চলছে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি! এই বুদ্ধিজীবীদের জন্য নিউজফিডে আর ঢুকা যাচ্ছে না। দু'জন সেলিব্রিটি বিয়ে করেছে। তো এদের বিয়েতে আপনি কি আশা করেন? বোরকা পড়ে মসজিদে গিয়ে বিয়ে করবে? কবুল বলে বউকে ঘরে বসিয়ে রাখবে? ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে ঘরের বাইরে যেতে দিবে না? আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ, যাদের কাজই হলো অন ক্যামেরায় এসে প্রমোট করা, সেটা জ্ঞানই হোক কিংবা লাইফস্টাইল। আর এখন বিয়ে করে অন ক্যামেরায় এসে নাচলেই দোষ। আয়মান সাদিকের দোষ একটাই। মসজিদে বিয়ে করে আবেগী বাঙ্গালীকে  ধর্মীয় ক্যাপশন দিয়ে দিয়ে পোস্ট করালো, এরপর প্রোগ্রামের নাচা-নাচির ভিডিও পোস্ট করে দিলো এদের বিপাকে ফেলে! তারপর এই জনতা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা শুরু করলো। এখন তো নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঠেকাতে ডিফেন্সিভ কার্ড প্লে করতে হবে তাদের। এই শুরু হলো হাদিস-কুরআনে মোড়ানো সেই জ্বালাময়ী যুক্তির নামে কপটতা! আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ উনাদের কাউকেই দেখিনি মসজিদে বিয়ে করেছে বলে নিজেদের ধার্মিক পরিচয় দিতে কিংবা ক্যাপশনে হাদিস লিখ...

মানুষদের অভ্যাসে পরিণত করতে নেই

মাঝে মাঝে কিছু মানুষের অনুপস্থিতি খুব ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এই মানুষগুলো হয় জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে, নয়তো কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে চলে গিয়েছে। চাইলেও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এদের। সেদিন জ্বরের ঘোরে যখন কাতরাচ্ছিলাম, অস্ফুট গোঙ্গানি বের হচ্ছিলো মুখ দিয়ে। তখন খুব করে চাচ্ছিলাম কেউ এসে পাশের রুম থেকে কাথাটা এনে দিক। জ্বরের মাত্রা যখন আরো বেড়ে যাচ্ছিলো, তখন বার বার কপালে হাত রেখে আতঙ্কে উঠছিলাম। আকাশ-কুসুম ভাবনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, কেউ এসে জলপট্টি দিয়ে দিক কপালে। নাহ, সেদিন পাশের রুম থেকে কেউ কাথাটাও এনে দেয়নি, কপালে জলপট্টিটাও দিয়ে দেয়নি! যে কাজ মা খুব যত্ন নিয়ে করে দিতো, সে কাজ আর কেউ করে দেয়নি। যতোদিন মা ছিলো জ্বর একটা সুখের নাম ছিলো, মা ছাড়া জ্বর এক অসুখের নাম!  বিকেলে বারান্দায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হঠাৎ করে কেমন যেন এক শূন্যতা অনুভব হয়। কাপ ভর্তি শূন্যতা এসে বিষাদগ্রস্থ করে তুলে এ মন। আমি এ শূন্য ঘরের চারপাশে নজর বুলায় আর তীব্র অবহেলা নিয়ে চায়ে চুমুক দিই! মানুষদের অভ্যাসে পরিণত করতে নেই। জাগতিকজ্ঞান আর আবেগে জড়াতে নেই। একটা সময় এসে নিজের সাথে নিজের একা থাকতেই হয়। এই ...

ভার্সিটির ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের হাসিখুশি, বোকাসোকা'ই মানায়

ভার্সিটির ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের হাসিখুশি, বোকাসোকা'ই মানায়। যারা ক্যাম্পাসে ঘুরবে-ফিরবে তিড়িংবিড়িং করবে, ছবি তুলবে, সেই ছবি স্যোসাইল মিডিয়াতে আপলোড দেওয়ার সময় ক্যাপশন দিবে, "Friends Forever"। মাথায় ক্যারিয়ার টেনশন, Project, Thesis এসব নিয়ে পড়ে থাকবে থার্ড-ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্টরা। যে বইটা যেই বুকসেল্ফে রাখলে মানানসই এবং কার্যকরী, তাকে সেখানেই রাখতে হয়। ক্যাম্পাস লাইফের এটাই সৌন্দর্য্য।  এখন কথা হলো এই সিনিয়ররা যারা নিজেরা অন্তঃসারশূন্য, একাডেমিকে হদিস নাই, স্কিলের কথা বললে বেদিশা হয়ে পড়ে। এরা সারাদিন মাঠে পড়ে থাকলে অথবা Cool বড় ভাই সাজতে গিয়ে ছ্যাচঁড়া হয়ে গেলে এটা বড্ড বেশি বেমানান।!  ক্যাম্পাসে প্রতি বছর নতুন নতুন ব্যাচ আসে। প্রতিবছরই নিয়ম করে বড় ভাইরূপী কিছু ত্যাদঁড় আর ছ্যাচড়াদের চিনা হয়। সিনিয়র হয়ে এসব দেখতে এখন নিজেরই লজ্জা লাগে। প্রেম ভিক্ষুক এসব ভাইয়েরা হয়তো ৯০'দশকে পড়ে আছে। এরা ভুলেই যায় যে, এদের সো কলড কেয়ারিং মার্কা ছ্যাচড়ামিগুলো স্কিনশর্ট হয়ে ইনবক্সে ইনবক্সে ভাইরাল হয়!   আপনাদের ভাষায় আপনাদের বলছি, "যেই টেবিলে বসার যোগ্যতা আপনার নাই কিংবা বসতে গিয়ে ...

Monologue 22

 রাত ৯:০৫। হাতে ওয়ান টাইম চায়ের কাপ নিয়ে ফুটপাতের ওপর বসে আছি। রাত নয়টার পর থেকে কুমিল্লা শহর আস্তে আস্তে নীরব হতে শুরু করে। পৌরসভার এই দিকটা আরো তাড়াতাড়ি যেন নীরব হয়ে যায়। এ সময়টায় এভাবে ফুটপাতের ওপর চুপচাপ বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। এই ফুটপাতে ভিক্ষুকরা বসে ভিক্ষে করে, মুচি বসে জুতা সেলাই করে, প্রেমিক-প্রেমিকারা বসে আড্ডায় দেয়, অনেকে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এখানে এসে সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্লান্তি ভুলে। ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি আর সাতপাঁচ ভাবছি। পাশ থেকে একজন সিগারেট বাড়িয়ে দিলো হাসিমুখে। আমি ভদ্রতা সুলভ হাসি দিয়ে বললাম," সরি ভাইয়া, আমি স্মোক করি না, তবে ধন্যবাদ আপনাকে "। এরপর দীর্ঘ এক আড্ডা হলো উনার সাথে। আড্ডার প্রতিপাদ্য ছিলো," এই সিগারেটের খাতিরে কতোজনের সাথে পরিচয় হয়! ছেলেরা আসলে ওয়ানটাইম কাপে চা খেলেও একই সিগারেটের ফিল্টারে কয়েকজন মিলে ফুঁকতে দ্বিধাবোধ করে না "। কী অদ্ভুত এক আলোচনা করলাম এতোক্ষণ! আড্ডা ছেড়ে দু'জনেই উঠে রওয়ানা দিলাম। হাঁটছি আর ভাবছি," বদ অভ্যেস থাকা সবাই কী এমন ইন্টেলেকচুয়াল হয়?" হয়তো হয়। আমার জীবনে অধিকাংশ ভাইদেরই এমন দে...