মানুষদের অভ্যাসে পরিণত করতে নেই
মাঝে মাঝে কিছু মানুষের অনুপস্থিতি খুব ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এই মানুষগুলো হয় জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে, নয়তো কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে চলে গিয়েছে। চাইলেও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এদের।
সেদিন জ্বরের ঘোরে যখন কাতরাচ্ছিলাম, অস্ফুট গোঙ্গানি বের হচ্ছিলো মুখ দিয়ে। তখন খুব করে চাচ্ছিলাম কেউ এসে পাশের রুম থেকে কাথাটা এনে দিক। জ্বরের মাত্রা যখন আরো বেড়ে যাচ্ছিলো, তখন বার বার কপালে হাত রেখে আতঙ্কে উঠছিলাম। আকাশ-কুসুম ভাবনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, কেউ এসে জলপট্টি দিয়ে দিক কপালে। নাহ, সেদিন পাশের রুম থেকে কেউ কাথাটাও এনে দেয়নি, কপালে জলপট্টিটাও দিয়ে দেয়নি!
যে কাজ মা খুব যত্ন নিয়ে করে দিতো, সে কাজ আর কেউ করে দেয়নি। যতোদিন মা ছিলো জ্বর একটা সুখের নাম ছিলো, মা ছাড়া জ্বর এক অসুখের নাম!
বিকেলে বারান্দায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হঠাৎ করে কেমন যেন এক শূন্যতা অনুভব হয়। কাপ ভর্তি শূন্যতা এসে বিষাদগ্রস্থ করে তুলে এ মন। আমি এ শূন্য ঘরের চারপাশে নজর বুলায় আর তীব্র অবহেলা নিয়ে চায়ে চুমুক দিই!
মানুষদের অভ্যাসে পরিণত করতে নেই। জাগতিকজ্ঞান আর আবেগে জড়াতে নেই। একটা সময় এসে নিজের সাথে নিজের একা থাকতেই হয়। এই অভ্যাস আর ইমোশনাল এটাচমেন্ট তখন খুব পীড়া দেয়। এই অনুপস্থিতি ভেতরে ভেতরে কুঁকড়ে খায়। জীবনে কেউই কারো জায়গা প্রতিস্থাপন করতে পারে না, শুধু নতুন মাত্রা যোগ করে দিতে পারে!
মন্তব্যসমূহ