পোস্টগুলি

Chess with my Queen

ছবি
কোনো এক অলস বিকেলে মগ ভর্তি কফি আর মাথা ভর্তি গেইম প্ল্যান নিয়ে বসবো দাবার বোর্ডে। আমার opponent-এ বসবে তুমি৷ আমাদের কথা হবে চোখে চোখে, আমাদের কথা হবে দাবা বোর্ডে প্রত্যেকের ১৬ সদস্যের সেনা বহরের মাধ্যমে! তুমি আমার সাথে মাইন্ড গেইম খেলতে চাইবে। আমার গেইম প্ল্যান এলেমেলো করে দেওয়াই হবে তোমার প্রধান ডেমোক্রেসি। আমার বিশপদ্বয় যখন তোমার বোর্ডে এগিয়ে যাবে, তখন তোমার ঠোঁটের বাকা হাসি দিয়ে আমি সহ আমার বিশপদ্বয়ের বাঁকা চাল কুপোঁকাত করাই হবে তোমার মূল লক্ষ্য৷ আমি আমার মোহগ্রস্ত মন আর গেইম প্ল্যানার বিশপদ্বয়ের বাঁকা চাল নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা করেই যাব! আমার কিস্তিদ্বয় যখন তোমার দাবার বোর্ডের রাজার দিকে তাকঁ করে থাকবে, তখন তুমি তোমার নিজের রাজা এই আমিটাকে তোমার কাঁজল চোখের সরল দৃষ্টি দিয়ে ঘাঁয়েল করার চেষ্টা করবে! আমি তোমার এই কালো জাদু থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করবো। ভেস্তে যাবে আমার সব গেইম প্ল্যান! নিজেকে আত্মসংবরণ এ নিয়ে তাড়াতাড়ি ছক বাঁধবো নতুন গেইম প্ল্যানের। আমি যখন চেক-মেইট দিতে যাবো, তখন তোমার গম্ভীর-বিষাদগ্রস্ত-অন্ধকার করা মুখের দিকে তাকিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের মন্ত্রীকে খুঁইয়ে...

Man in Mystery!

ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি পুরো রুম অন্ধকার। ল্যাপটপে তখনও ওয়েব সিরিজ চলছে, এপিসোড ৮। চোখ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যতদূর মনে পড়ছে এপিসোড ৫ চলছিলো। তারমানে (৪৫*২)= ৯০+ মিনিট মানে প্রায় দেড় ঘন্টা চলে গিয়েছে। লাফ মেরে উঠে বিছানা থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ৪ঃ৩০ বাজে, ট্রেন ৩ঃ৪০ এ ছিল। তারমানে ট্রেন মিস!!! অগত্যা কাপড় পাল্টিয়ে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলাম চা বানাতে। আব্বাকে কল দিলাম বাসায় আসতে। আব্বা বাসায় এসে কিছুটা অবাক, "তোর না ট্রেন বিকালে ছিলো?"। আমি হেঁসে বললাম,"আমি ঘুমায় পড়ছিলাম, আপনে জানতেন বিকালে আমার ট্রেন ডাক দিলেন না কেন তাহলে? রাতের ট্রেনে যাইতে হবে এখন। ১২টায় ট্রেন, আপুদের বলার দরকার নেই উনারা আবার টেনশন করবে "। চা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম দু-জনে। শেষ কবে এভাবে দুজনের সামনাসামনি বসা হয়েছিলো মনে পড়ছে না। সপ্তাহে বাসায় আসলেও, বাসায় সময় দেওয়া হয় না তেমন। রান্নাঘরে কাজ করার সময় টুকটাক কথা হয় তাও কাজের, বাজার-সদাই আছে কিনা, কি রান্না করা হবে এসবই। খাওয়ার সময় পর্যন্ত একসাথে খাওয়া হয়ে ওঠে না আমাদের। কারণ বাসায় আসলে আমি প্রায়ই রাত করে বাসায় ফিরি, তখন আব্বা ঘুম ৷ গেইটের তালাটা আ...

জীবনের ডার্ক সিক্রেট

আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো ডার্ক সিক্রেট থাকে। সে সিক্রেটগুলো চাইলেও বেস্ট ফ্রেন্ড কিংবা ক্লোজ কারো সাথে শেয়ার করা যায় না। এই সিক্রেটগুলো আমরা চাইলেও রিভিল করতে পারি না, অনুতপ্ত হলেও অনুশোচনাবোধ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, কিচ্ছু করার থাকে না আমাদের! আমি যতবার এমন সিচুয়েশানে পড়েছি, ততোবারই খেয়াল করেছি এই সিক্রেটগুলো শেয়ার করার একমাত্র মাধ্যম হলো ডাইরিতে লিখে ফেলা। যে সিক্রেটগুলো বন্ধুমহল জানলে হয়তো হাসি-ঠাট্টা করতো, ক্লোজড মানুষজনকে বললে হয়তো জাজমেন্টাল লুক দিতো, পরিবারকে বললে হয়তো ঝড় বয়ে যেত বাসায়, এই সিক্রেটগুলো নির্দ্বিধায়-নির্বিঘ্নে শুধুমাত্র ডাইরিতে শেয়ার করার মাঝেই এক অন্যরকম শান্তিবোধ কাজ করে। ডাইরি আমাকে জাজমেন্টাল লুক দেয় না, হাসিঠাট্টা করে না, চুপচাপ হজম করে যায় গল্পগুলো। লেখার পর যখন নিচে সিগনেচার দিয়ে লেখার ইতি টানি, তখন অন্যরকম এক প্রশান্তি কাজ করে মনে। একটা জিনিস খেয়াল করেছি, প্রতিবার লেখার ধরনের উপর আমার প্রতিটা সিগনেচারের ধরন পাল্টে যায়! বিষন্ন মনে লিখতে বসলে সিগনেচারের টানটা লম্বা দিয়ে ফেলি, হাসিখুশি মনে লিখতে বসলে সিগনেচার একটা স্মাইলি ইমুজি কোড দিয়ে ফেলি, বিরক্তি নিয়ে লি...

Monologue-11

রাত ১১টা ২০। লোকাল ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বাইরের ঘন কুয়াশার দিকে তাকিয়ে আছি। গাড়ি প্রচন্ড ভীড়, পুরো বগিতে কারেন্ট নেই, পূর্ণিমার শীতল আলো গাঁয়ে এসে পড়ছে। ২০২২-এর শুরু থেকে wishlist-এ এড করে রেখেছিলাম একদিন রাতে লোকাল ট্রেনে জার্নি করবো,সেদিন বাইরে থাকবে নীল জ্যোৎস্না, ট্রেনের বগি থাকবে অন্ধকার! লোকাল ট্রেনের বগিগুলোয় অধিকাংশ সময়ই ইলেক্ট্রিসিটি থাকে না, থাকলেও গুটিকয়েক কম্পার্টমেন্টে। আমি খুঁজে খুঁজে অন্ধকার বগিটাই উঠলাম। ট্রেন স্টেশন ছাড়লো, কানে এয়ারপডটাই এইদিনের জন্য বাছাই করে রাখা প্লেলিস্টটা চলছে। এই মুহুর্তগুলোয় এসে মনে হয় ছেলে হয়ে জন্মানোটা কতোটা সৌভাগ্যের ! নয়তো মাঝরাত হাঁটতে বের হওয়া, আড্ডা দিয়ে রাতে দেরিতে বাসায় ফিরা, বন্ধুদের সাথে হুটহাট ট্যুর প্ল্যান, মাঝ নদীতে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে পূর্ণিমা দেখা, এই যে ট্রেন জার্নি, wishlist-এর এমন অনেক ইচ্ছেগুলো অপূর্ণই থেকে যেতো হয়তো ! কুয়াশা কেঁটে ট্রেন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। দূরে কুয়াশার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্ডারের কাঁটা তারের পাশে নিয়ন বাতির আলোগুলোর আকৃতিকে একটা বিশাল সাপ মনে হচ্ছে। নাকে সিগারেট এর গন্ধ আসায় বর্ডার এর দিক থেকে চো...

মানুষ মাত্রই একা

চলার পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম পাশাপাশি সঙ্গ দিয়ে আসা মানুষটা আর সঙ্গে নেই। তখন নিজেকে আশ্বস্ত করলাম এই বলে যে তার হয়তো দীর্ঘ পথ চলায় ক্লান্তি পেয়ে বসেছে, বিরতি নিয়েছে হয়তো। আশ্চর্য! সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলো, আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো, তার আর আসার নামগন্ধ নেই! মাঝরাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন ঝড় শুরু হলো তখনও অপেক্ষায় ছিলাম হয়তো রাস্তার ও-ই মাথায় এখনই তাকে দেখতে পাবো বলে। ঝড়ের সাথে বিজলির আলোকছটায় প্রতিবার ওই পথ পানে শতশত ছায়ার মাঝে সেই একটা পরিচিত অবয়ব খুঁজেছিলাম প্রতিবার। আশ্চর্য, ঝড় থেমে গেল, ভোরের সূর্য উকি দিল, অতঃপর আমি নিজেকে মাঝপথে কাকভেঁজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম! অনেকটা চাপা ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে, " মানুষ মাত্রই একা,বাকি সব অভিজ্ঞতা "। মন কি বুঝলো নাকি বুঝলো না জানি না, আমার অপেক্ষার অবসান ঘটনলো। এরপর রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান হোক কিংবা সমুদ্র তীরে বসে ঢেউ গণনার আনন্দ, পাহাড়ের চূড়ায় উঠে মুক্ত বাতাস টেনে নেওয়ার প্রশান্তি, সবকিছু একা উপভোগ করতে শিখে গেলাম। আগে এক হয়ে জীবন উপভোগ করার স্বপ্ন দেখতাম এখন একা থেকে জীবন ...

Sweet in my Black Coffee

আমার হাতে ধরে রাখা কফির মগটার দিকে আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। এক চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো জিহ্বা থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠলো! স্টুডেন্ট উপহার হিসেবে কফির প্যাকেটটা দিয়েছিলো। কফির প্যাকেট দেখে খুশিই হয়েছিলাম। প্যাকেটটা দেওয়ার সময় বলে ছিল , "ভাইয়া, ব্ল্যাক কফি স্পেশাল এডিশন, চিনি আর মেট ছাড়া খাবেন"। আমি আমলে নেই নি তখন। ভেবেছিলাম পরীক্ষার আগের রাতে 'Nescafe' দুধ চিনি ছাড়া পান করা পাবলিক আমি, এ আর এমন কি! এখন এই কফিতে চুমুক দেওয়ার পর মনে হচ্ছে ওর কথা গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া উচিত ছিল। কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম, "যে দুধ-চিনি ছাড়া শুধু ব্ল্যাক কফি খেতে পারে, সে মানুষও খুন করতে পারে!" আপাতত আমার মানুষ খুন করার ইচ্ছে করছে না, তবে ওই স্টুডেন্টকে সামনে পেলে Complex Number এর কিছু জটিল ফর্মুলা প্রতিপাদন করিয়ে ছাড়তাম! পরক্ষণে মনে হলো আমার স্টুডেন্ট মনে হয় আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। এতোদিনের করানো জটিল জটিল থিওরি আর ইকুয়েশনের সব বিষাদ আর তিক্ততা সব এই কফির মাধ্যমে আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে! তিন চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো, " নাহ, আমাকে দিয়ে মানুষ খুন করাও সম...