পোস্টগুলি

ম্যাচুুউরড স্বার্থপর

স্বার্থপর মূলত দুইরকমের হয় -  ১. স্বভাবগত  ২. ম্যাচুরিটি প্রথম প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলতেই হয়। কারণ এটা আমি নিজেই এবং এ নিয়ে প্রায় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়!   কিছু কিছু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে  যেখান থেকে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায় তার জীবনেও অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল, অনেক পাগলামো ছিল, ছিল অনেক স্বপ্ন যা কল্পনা থেকে বাস্তবে পেতে যা করার তার সবটুকুই করার চেষ্টা করতো সে। কলেজ জীবনটা পর্যন্ত সবকিছু সাজানো গোছানো এবং চারদিকে স্বপ্নের ছড়াছড়ি দেখতাম। পত্রিকার ভাঁজে "নৌবাহিনী" কিংবা " সেনাবাহিনী" এর ছোট বিজ্ঞাপনটায় চোখ রাখতে রাখতে নিজেকে সাদা পোষাকে কিংবা বন্দুক হাতে শান্তিরক্ষা মিশনে আছি সেই স্বপ্নের জালে বুনে ফেলতাম। নেবি'র একটা পরীক্ষাই বুঝিয়ে দিল স্বপ্নের বাজারে আমি যতই পরিপক্ক হয় না কেন চাকরির বাজারে আমি কতোটা অপরিপক্ক! পরিবার, অর্থনীতি,সমাজনীতি সবকিছুর চাপ তো তখনও তেমন দেখিই নি বলতে গেলে।  কিন্তু আজ যখন আমি এই অবস্থায় দাড়িয়ে, এতোকিছুর পর যখন বুঝতে পারলাম এক মরু ঝড় এসে অতীতের সবকিছু তলিয়ে দিয়ে গেছে...

পঞ্জিকা

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু আজ  প্রায় দুমাস ৫দিনের মতো হলো। ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠেই ডাইরিটা পাল্টাবো যেমনটা সবসময় করি নতুন ক্লাসে উঠার পর পরই।কিন্তু এবার নানান কারণে আর করা হয় নি!  অবশেষে নতুন ডাইরিটা খুলে বসলাম।  জীবনের প্রথম ডাইরিটা ছিল রিমা আপুর দেওয়া, দ্বিতীয়টা রিপা আপুর জামাই এর দেওয়া উপহার, তৃতীয়টাও উপহার পাওয়া, কলেজ লাইফেরটা নিজের কিনা কিন্তু ওর দ্বারা ডিজাইন করা !!!  আর এখনেরটা বন্ধু প্রীতমের দেয়া। এই সালটা শুরু হয়েছে পর পরই আমার যত হারানো একে একে শুরু! জীবনে যাকে সব থেকে বেশি মূল্যায়ন করা শুরু করেছিলাম সেই মানুষটাকে হারালাম,আম্মার অসুস্থতা যা দেখলে এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে যাই,নিজের মেয়ের অস্তিত্ব যার মাঝে খুঁজে বেড়াতাম তাকে হারালাম এছাড়াও আরো অনেককিছুই হারিয়েছি। এতোকিছুর মাঝে পাওয়া একটাই, নিজের পছন্দের বিষয়টা পাওয়া যদিও ভার্সিটি এটা আশা করি নি স্বপ্ন ছিল রুয়েটে পড়ার, যেখানে চান্স পেয়েও সাবজেক্ট ও আরেকটা কারণে পড়া হয় নি!  ভার্সিটি লাইফের বন্ধুরা এমন হবে তা আশা করি নি,তবে কিছু বন্ধু জুটেছে অনেক ভাল! এই সময়টায় এসে এখন বুঝতে পারছি ইমন(কলেজ লাইফের রুমমে...

একটি সুসাইড ও প্রদীপ হারানো

সোহা আপুর আইডিটা বেশ কয়েকদিন ধরেই ডিক্টিভেটেড! আসলে সারাদিন এইসেই টুকিটাকি আইডিয়া নিয়ে চ্যাট হয় আমাদের তাই রোজ ৩বেলা করে কথা না বললে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে! তারপর ব্যাপারটা পাত্তা দেই নি তেমন কারণ জানতাম আপু মাঝে মাঝেই এমন করে। নিজের অনলাইন বিজনেসে মন্দা দেখা দিলে কিংবা ডিপ্রেশড থাকলেই আইডি ডিক্টিভেট থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল লাইফ থেকে বিরতি নিয়ে নেই। আবার যখন মুড স্যুইং করে তখন নিজেই টেক্সট করে জিজ্ঞেস করে,"কিরে ছোট! কেমন চলছে সবকিছু, নতুন একটা আইডিয়া পেয়েছি বলতো কেমন হবে..... " আমাদের সম্পর্ক যে ভার্চুয়াল ভাই-বোনের সম্পর্ক তা মনেই হতো না, উপলব্ধি করতাম যেন মায়ের পেটের আপন বোন!   সবসময় এক উপদেশের সুরে বলতো " যখন কোনো কিছু নিয়ে হতাশায় ভুগবি কিংবা আইডিয়া কাজ করবে না তখন মানুষের ভীড়ে মুখ গুঁজে না থেকে হারিয়ে যাবি এসব থেকে। নিজেকে সময় দিবি একাকীত্বে "  অদ্ভুত একটা টান কাজ করতো উনার প্রতি, উনি যদি সত্যিই আমার বোন হতো কতো ভালই না ছিল!!!   আমার দৃষ্টিতে মেকাপের লেয়ার করে স্নাপচ্যাটে শট নিয়ে ইন্স্ট্রা ফেবুতে সেলিব্রেটি মেয়েদের তুলনায় সোহা আপুর মতো আপুগুলোই বেস্ট! ঘন্টার ...

পূর্ণিমা বিলাস

জ্যোৎস্নার আলোয় অদ্ভুত রকমের এক মায়া আর রহস্য কাজ করে!  ▪️ আপনি একাকী বসে একাকীত্বের হিসেব-নিকেশ কষতে পারবেন নির্বিঘ্নে কিংবা কলমের গতিতে কবিতার ঝড়! ▪️আপনি চাইলেই জ্যোৎস্নার অস্পষ্ট ঘোর লাগা আলোয় প্রিয়তমার ছেড়ে যাওয়া মায়া খুঁজে পাবেন।  ▪️কিংবা আপনি চাইলেই সিগারেটের পেছনে দুটো টান দিয়ে বলতে পারেন জীবন বিষাদ! জ্যোৎস্নার আলো আপনাকে আরো বিষাদ করে তুলবে!!!  ▪️ আপনি চাইলেই জীবন, ক্যারিয়ার,হতাশা ঝেড়ে ফেলে জ্যোৎস্নার আলো গায়ে মাখতে পারেন, সিউরিটি দিতে পারি কাব্যিকতা আপনার মনেও জন্ম নিবে।  ▪️আপনি চাইলেই  সামাজিক সব শেকড় উপড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ঘাসে পা রেখে হারিয়ে যেতে পারেন নিজের স্বাধীন চিন্তা জগতে!   ▪️আপনি চাইলেই দিনশেষে পরিবারের পরে যদি প্রেম আর মুগ্ধতা খুঁজে পেতে চান তাহলে তাও খুঁজে পাবেন জ্যোৎস্নার আলোয়। 

LoveLost !!!

শুরুটা হয় পাগলামো দিয়ে। তখন সবকিছুতেই যেন অদ্ভুত এক ভাল লাগা কাজ করে। প্রতিদিনের জন্য যেন একটা রুটিন তৈরি হয়ে যায়। ব্যক্তিত্বের বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এর থেকে বড় পাগলামো বুঝি আর কিছু হতে পারে না! আর তারপর?  তারপর তা কিছুদিন ভালোভাবেই চলে, মনে হতে থাকে হাজার জীবন পাড়ি দিয়ে ফেলা যাবে এই আবদ্ধতায়,যাক না দিনগুলো পাগলামোয়!  কী আছে জীবনে পাশে থাকার মানুষটি ছাড়া!  তারপর!  তারপর একদিন আসে সেই সময়টা যেই সময়টার জন্য কেউই প্রস্তুত থাকে না, যা নিয়ে দুজনের কারো সিলেবাসেই কোনো চ্যাপ্টার ছিল না। হঠাৎ করে যেন চারপাশটা ভ্রমে ভরে যায়। ছেড়ে যাওয়ার মাঝেই যেন সবথেকে বড় ম্যাচুউরিটি কাজ করে তখন। আর তারা তো ম্যাচিউরড হওয়ার জন্য জড়িয়েছিল এই শিকলে। তখন যেন সস্তা সিগারেটের পেছনে ফুঁ দিতে দিতে জীবনকে গালি দেওয়ার মাঝেও অদ্ভুত এক ম্যাচুউরিটি কাজ করে!  আর অপরদিকে আরেকজন সারারাত কেঁদে বালিশ ভিজালেও দিনে শখ করে কারো জন্য আর কাজল দেয় না কারণ কাজল তো তার এখন চিরস্থায়ী অলংকার 🙂 আহা অদ্ভুত এক ম্যাচুউরিটি!!!👏 সম্পর্ক!  সম্পর্ক!!  সম্পর্ক!!!  আসলেই কী সম্পর্ক তাকে বুঝাই?!  আমি...

নিশাচর

রাত ১টার কাছাকাছি! ছাদের রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছি। শহরটায় সুনসান নীরবতা। তবে এর মাঝেই কিছু কিছু ইন্টারেস্টিং জিনিস চোখে পড়ছে। কিছু মানুষের নিঃশব্দে নিরিবিলি হাঁটাচলা, বেশ কয়েকজনের ফুটপাতের উপর দাড়িয়ে আপনমনে সিগারেট ফুকঁছে। কেউ কেউ কর্মব্যস্ততা শেষে পাড়ার গলিটার ভেতর দিয়ে ভীরু ভীরু মনে এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বিশেষত মধ্যরাতে রাস্তা পরিষ্কার সেই মানুষগুলো আমার দৃষ্টিরত আকর্ষণসীমার ভেতর।   সবার কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরে শুয়ে পড়া আর তাদের কর্মব্যস্ততা শুরু! সকাল হলেই ঘুম ঘুম চোখে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ি । নীরব রাস্তাঘাট, যানবাহনের নেই কোনো ভীড়। রাস্তাগুলো কত পরিষ্কার, নেই কোনে ধুলোবালি, নেই কোনো নাক ছিটকানোর মত কিছু,  নেই কোনো নাক চেপে ধরা দুর্গন্ধ!  অথচ এই বিশেষ উপকারটুকু যারা করে তারা  রাত জেগে বিনা প্রচারণায় অল্পকিছু টাকার বিনিময়েই চুপচাপ নিরিবিলিতেই কর্মটুকু সম্পন্ন করে দিয়ে যায়। হয়তো মধ্যরাতে কিছু চোখ রাস্তায় পড়ে,  সেই চোখগুলোই শুধু তাদের দেখতে পাই। তারা বাদে আর কেউ তাদের দেখতে কিংবা চিনতেও পারে না।     পৃথিবীটা এমনই ! যারা সবার জন্য, ...