ম্যাচুুউরড স্বার্থপর

স্বার্থপর মূলত দুইরকমের হয় - 

১. স্বভাবগত 

২. ম্যাচুরিটি

প্রথম প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলতেই হয়। কারণ এটা আমি নিজেই এবং এ নিয়ে প্রায় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়!  

কিছু কিছু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে  যেখান থেকে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায় তার জীবনেও অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল, অনেক পাগলামো ছিল, ছিল অনেক স্বপ্ন যা কল্পনা থেকে বাস্তবে পেতে যা করার তার সবটুকুই করার চেষ্টা করতো সে। কলেজ জীবনটা পর্যন্ত সবকিছু সাজানো গোছানো এবং চারদিকে স্বপ্নের ছড়াছড়ি দেখতাম। পত্রিকার ভাঁজে "নৌবাহিনী" কিংবা " সেনাবাহিনী" এর ছোট বিজ্ঞাপনটায় চোখ রাখতে রাখতে নিজেকে সাদা পোষাকে কিংবা বন্দুক হাতে শান্তিরক্ষা মিশনে আছি সেই স্বপ্নের জালে বুনে ফেলতাম। নেবি'র একটা পরীক্ষাই বুঝিয়ে দিল স্বপ্নের বাজারে আমি যতই পরিপক্ক হয় না কেন চাকরির বাজারে আমি কতোটা অপরিপক্ক! পরিবার, অর্থনীতি,সমাজনীতি সবকিছুর চাপ তো তখনও তেমন দেখিই নি বলতে গেলে। 

কিন্তু আজ যখন আমি এই অবস্থায় দাড়িয়ে, এতোকিছুর পর যখন বুঝতে পারলাম এক মরু ঝড় এসে অতীতের সবকিছু তলিয়ে দিয়ে গেছে এখন এই পৃথিবী নামক গ্রহে আমার কাছেই আমি একা, সবকিছুর পেছনে কাজ করে স্বার্থ, যেখানে সম্পর্কের থেকে অর্থের আর অর্থের থেকে স্বার্থের চাহিদা বেশি তখন আশপাশের থেকে ছুঁড়ে মারা ট্যাগ গলায় ঝুলতে লাগলো "স্বার্থপর "। চায়ের আড্ডায় যখন সামনে কী করব সেই টপিক বাদে অন্য টপিকে কথা উঠে তখন অধৈর্য্য  হয়ে পড়ি, মানুষের অনর্থক কথার চালাচালি বাদ দিয়ে যখন উঠে দাঁড়ায় তখন সবার কাছে স্বার্থপর বনে যায়! ভার্চুয়াল জগতে তীব্র বিরক্ত হয়েও একঘেয়ে ভাবে নিজের কাজ করতে গিয়ে যখন বন্ধুদের বার্তার জবাব দেরিতে দেই তখন দেখা হলে তাদের থেকে শুনতে হয় কিরে " টাকার পেছনে আর কতো? এখনও তো টাকা কামানোর বয়স হয় নাই? ",কিংবা " কত আসে মাসে?"! 

একটা সময় ছিল সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে বিলটা সবার থেকেই ভাগাভাগি করে নিতে হতো এখন দেখা যায় জন্মদিন কিংবা কোনো কাজ ব্যাতীত রেস্টুরেন্টে যাওয়ারও সময়টুকু হয়ে উঠে না।রেস্টুরেন্টে বিলটা দেওয়ার সময় বন্ধুর থেকে শুনতে হয় "তুই ইনকাম করস বিলটা তো তুই দিবি " আবার বিলটা দিলেও সমস্যা আরেকটা কমেন্ট পাস হবে অন্য পাশ থেকে " ও কামাই বলে আজ ও বিল দিতেছে, আগের শেয়ারিং ভাবটা আর নাই! "

তারপর আসে যখন হতাশ বন্ধুটিকে যখন এভাবে না থেকে কোনো কিছু করার জন্য আইডিয়া দিবেন তখন পাশের আরেকজন বলে বসবে তোকে আল্লাহ মিলাই দিসে বলে এতো ইজিলি বলে ফেলতেছোস কাজটা আমাদের জন্য এতো ইজি না! তাদের এটা বুঝানো দায় যে রাত জেগে পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ার খেলে অন্নধ্বংস করার থেকে সারাদিন ঘুরে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করা হকার আঙ্কেলের অবস্থানটা  তাদের থেকে অনেক ভাল। পরিবারের একটা বোঝা হয়ে না থেকে  বড় হওয়ার সাথে সাথে পরিবারকে একটু দায়মুক্ত করাটাও একটা বড় দায়িত্ব। 

হা এতোকিছু কারো স্বভাবগত স্বার্থপরতার অভিজ্ঞতা না। এই ঘটনাগুলোর যদি আপনিও একজন বাস্তব প্রত্যক্ষদর্শী  হোন তাহলে ধরেই নিতে পারেন আপনি একজন ম্যাচুউরড স্বার্থপর 🙂

এই ট্যাগটাতেও কিন্তু একটা ম্যাচুউরড স্যাটিসফ্যাকশনের ব্যাপার আছে😄

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest