সময় যেখানে যেমন
ট্রেনে বসে আছি৷ আমার বিপরীত পাশে বসে আছে এক ৬৫+ বছরের বৃদ্ধ। ট্রেন চলছে আর উনি বসে বসে চোখ বন্ধ করে ঝিমাচ্ছে। পড়নে ফর্মাল শার্টপ্যান্ট, সম্ভবত অফিস করে বাসায় ফিরছেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি উনার দিকে। আমার ভাবনায় হিসেব-নিকেশের ঝড় চলছে। কানে ইয়ারফোনে কি লিরিক্স চলছে তাতে একদম মনোযোগ নেই!
নিজের শেষ বয়সের কথা মনে পড়ে গেল। আমার আর উনার মাঝে বয়সের ব্যবধান কতো হবে? ৪০-৪২। মানে উনার বয়সের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পার করে ফেলেছি আমি। এখনকার যেই এনার্জেটিক মাইন্ড, এক্সাইটমেন্ট, সামনের দিনগুলো নিয়ে কত পরিকল্পনা, তা কি উনার বয়সে পৌঁছুতে পৌঁছুতে শেষ হয়ে যাবে? ষাটোর্ধ্ব হওয়ার পর থেকে নাকি শেষ বয়সের অবসন্নতা ভর করে! কে জানে, এই ভাবলেশহীন চেহারার ঘুমন্ত বৃদ্ধ ভদ্রলোক হয়তো বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনযাপন করছে!
আমি আমার শেষ বয়সে নিদেনপক্ষে আমার এক্সাইটমেন্ট আর আমার সেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টির মৃত্যু দেখতে চাই না। হয়তো কোনো না কোনো আফসোস থেকেই যাবে কিন্তু, কখনো চাইবো না আমার কল্পনাবিলাসিতার কিংবা মুগ্ধ হওয়া ক্ষমতা কমে যাক৷ আমি কখনো চাইবো না শেষ বয়সে এসে নিজের অপ্রকাশিত উপন্যাস অযত্নে পরে থাকুক, বরং এটাই আমি চাইবো আমার অসম্পূর্ণ উপন্যাস সমাপ্তির শেষ লাইনে পৌঁছুক, রঙ্গিন মলাটে শোভাবর্ধন করুক পাঠকের টেবিলকে আর এর ভেতরকার গল্প ছুঁয়ে যাক পাঠকের হৃদয়।
জীবন পূর্ণতা পাক। সে জীবনে ঠাঁই হোক সকল অভিজ্ঞতার। আমাদের বেঁচে থাকাটা যেন অক্সিজেন অপচয় বলে মনে না হয়।

মন্তব্যসমূহ