আটপৌরে জীবন
এই আটপৌরে জীবনে যখন থেকেই বুঝতে শিখেছি তখন থেকে কখনোই চাই নি জীবনে বদ অভ্যাসগুলো রপ্ত হোক। কিন্তু এরপরও চায়ের প্রতি আসক্তি, কফির নেশা, লিখালিখর মতো বদ অভ্যাসগুলো ঠিকঠিকই পেয়ে বসেছে। কখনো ভাবিনি এই বদ অভ্যাসগুলোই আমাকে বেঁচে থাকা শিখাবে!
এক-একটা ব্যস্ততম দিনের শেষে একটা মগ চা-কফি যেন নিজেকে সতেজ করার ডোজ। শারীরিক ক্লান্তি হোক কিংবা মানসিক অবসাদ,এসবের উর্ধ্বে যেন এরা।
আর লিখালিখি, এ তো রীতিমতো মানসিক সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন কেউ গালি দিলে, অভিযোগ করলে, সাইট-টক করলে গায়ে লাগে না। মানুষকে বিশ্লেষণ করতে শিখিয়েছে এই লিখালিখি। আজ থেকে চার বছর আগের লিখার সাথে দুই বছর আগের কিংবা এখনকার লিখাগুলো বিস্তর ব্যবধান খুঁজে পাই। যেই জায়গায় আমার নিজেরই মনমানসিকতার পরিবর্তন হয়, সেই জায়গায় আমার সামনে ভালো আর পেছনে খারাপ বলা চরিত্রগুলোর পরিবর্তনশীলতা তো স্বাভাবিক!
মাঝে মাঝে তীব্র অবসাদগ্রস্থ হলে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগলে লিখতে বসে যাই চুপ করে। লেখা শেষ করে কখনো কখনো নিজের লেখা দেখে নিজেই অবাক হয়, এই সব কী আমার মাথা থেকেই বের হয়েছে! তারপর একদিন আবিষ্কার করলাম মন খারাপ থাকলেই আমার মাথায় ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনা বেশি কাজ করে। এরপর থেকে মন খারাপ হলে তেমন বেশি ভাবি না!
কাউকে ভালো না লাগলে, কারো ব্যবহারে কষ্ট পেলে কখনো সামনাসামনি বলি না। সব কিছু লিখে রাখি, তারপর মন ভালো হলে ছিঁড়ে ফেলে দেয় চিরকুট গুলো! এই মানুষগুলো কখনো জানে না, তাদের ব্যবহার দ্বারা অন্যের মনে কত গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়!
একদিন হুট করে দেখলাম ডায়রির পাতাগুলো একের পর এক লিখতে লিখতে আলাদা এক জগৎ তৈরি হয়ে যায়। যে জগৎ সম্পূর্ণ নিজের চিন্তাভাবনা দিয়ে গড়া,যার প্রতিটা নিয়ম নিজের সংবিধান দিয়ে গড়া। অদ্ভুত সেই জগতে ডুব দিয়ে দেখলাম,এই জগতে আমার আমি ছাড়া বাকি সবাই স্বার্থপর। সেই আদালতে সবাই আসামীর কাঠগড়ায় আর ভিক্টিমের কাঠগড়ায় আমি দাঁড়িয়ে।
তারপর দেখলাম কারো প্রতি-ই কোনো অভিযোগ নেই, নেই কোনো মনঃক্ষুণ্নতাও। জীবন যেখানে সুন্দর, সেখানে এর মানুষগুলোও একদিন না একদিন সুন্দর হয়ে ওঠবেই❤️
মন্তব্যসমূহ