যন্ত্র সভ্যতা ও আমি
আপনি যদি যন্ত্রের উপর একবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, এ নির্ভরশীলতা আপনার ইমোশনাল লাইফটাকে অনেকটায় নষ্ট করে দিবে। ইমোশন জিনিসটা যদি ব্যক্তিত্বে শূন্যের কাছাকাছি থাকে, তাহলে এর যেমন সুবিধা আছে তেমন অসুবিধাও আছে।
এই যেমন ধরুন আপনার সারা সপ্তাহের শিডিউল প্রি-প্ল্যান করে রাখলেন গুগল ক্যালেন্ডারে। টাস্ক অনুযায়ী এক একটা প্রি রিমাইন্ডার দিয়ে রাখলেন, কোনোটা আধাঘন্টা আগে তো কোনোটা এক ঘন্টা। যেমন টিউশনে যেতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট এবং আপনার ফ্রেশ হতে ১৫ মিনিট, তাই টিউশন প্রি রিমাইন্ডার ৩০ মিনিট আগে। তেমনিভাবে মিটিং, ওয়ার্কআউট, ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আপনি যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন।
এর সুবিধা হলো আপনি সবকিছুতে টাইমিং ঠিক রাখতে পারবেন। যন্ত্রের জায়গায় যদি একটা মানুষের উপর নির্ভরশীল হতেন, তাহলে হয়তো মাঝে মাঝে টাইমিং এ সমস্যা হতো, ট্রাস্ট ইস্যু তৈরি হতো। তাছাড়া আজকাল মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেই মানুষ পরগাছা ভাবা শুরু করে, বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করে। পৃথিবীতে যত বড় বড় ট্র্যাজেডি সব মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার জন্যই ঘটেছে।
অসুবিধা হলো আপনার কপালে আন-স্যোসাল ট্যাগ লেগে যাবে। কেউ কেউ একটু সম্মান দেখিয়ে রোবট কিংবা যান্ত্রিক বলে ডাকবে। আপনি আর মানুষদের সহ্য করতে পারবেন না। গোছানো রুটিনের বাইরে কেউ একটু সময় চাইলেও আপনাকে পাঁচসাতবার ভাবতে হবে। আপনার জীবনে বেস্ট ফ্রেন্ড কিংবা কাছের মানুষ বলতে কেউ থাকবে না কিংবা থাকতে চাইবে না৷
আমার এইটুকু জীবনে আমি অসুবিধা-সুবিধা দুটোরই অভিজ্ঞতা পেয়েছি । নিজের ভালো চাইলে এখন আর্টিফিশিয়াল আর যান্ত্রিক হওয়ার বিকল্প নেই। সামাজিক এই যুগে সবাই হয়তো স্বার্থপর না কিন্তু যখন আপনি ধারে ধারে গিয়ে প্রতারিত হবেন সেটা মানসিক হোক কিংবা বাস্তবিক তখন আপনি বাধ্য হবেন যান্ত্রিক হতে৷ যন্ত্র আপনাকে প্রতারিত করবে না,তাকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। তখন আপনার কাছে মনে হবে, "লোকে যায় বলার বলুক আমি তো আমাতেই সুখী "।
হয়তো রেস্টুরেন্টে এতো কোলাহলের ভীড়ে কর্ণারের সিটটায় বসে একা খেতে খেতে মনে হবে যান্ত্রিকতা বড্ড নিষ্ঠুর, বড্ড একঘেয়ে । হয়তো কোনো এক মন খারাপের বিকেলে গল্প করার জন্য ফ্রেন্ড লিস্টের শ'খানেক বন্ধুত্বের ভীড়ে যখন কাউকে খুঁজে পাবেন না, তখন মনে হবে কী করলাম জীবনে বন্ধু বানালাম না যার সাথে সব বলা যায়।
স্যোসাল আর যান্ত্রিক লাইফ স্টাইল যারা ব্যালেন্স করে চলতে পারে তারা আমার কাছে ম্যাজিসিয়ান থেকে কোনো অংশে কম মনে হয় না। কত সুন্দর রুটিন লাইফ তাদের, কত সুন্দর সব গ্রুপ সেলফিতে আমি তাদের খুঁজে পাই। কখনো চায়ের টংয়ে আড্ডা দিতে দিতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে মনে চায়, " আপনারা এতো কিছু ব্যালেন্স করেন কীভাবে?"
মন্তব্যসমূহ