পোস্টগুলি

সব পেলে নষ্ট জীবন

তারপরও জীবন থামতে চায়। চলন্ত রেলগাড়ীতে তীব্র ব্রেক কষে যাত্রার মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যেতে মনে চায়। এই যাত্রায় কারো কাছে "Life is a journey", কারো কাছে "Life is a tour" বলা এ জীবন নিজের কাছে মনে হয় "Life is a Marathon"! একটু ঝিমুনি আসলেই চোখ খুলে দেখতে হয় পেছনের অনেকে টপকে সামনে চলে গিয়েছে!  তারপরও জীবন একটু থেমে আশেপাশের মানুষের মুখোশের অন্তরালে আসল মানুষটিকে চিনতে-জানতে মনে চায়। যে মুখোশের আড়ালে মানুষ কান্না লুকায়, চাপা আর্তনাদ ফেলে, ক্রোধ পুষে, সেই মুখোশ ফেলে দিয়ে আয়নায় তাদের কুৎসিত চেহারাটা চিনিয়ে দিতে মনে চায়! এই জীবনে একটু থেমে ভালোবাসার স্বাদ উপভোগ করতে মনে চায়। যান্ত্রিকতার আত্মগ্লানিতে ক্লান্ত মন ভালোবাসার পরিচর্যায় পুনরায় উজ্জীবিত হতে চায়। দিনশেষে ভালোবেসে কেউ একজন থাকুক যে ম্যাটারিয়ালিস্টিক প্রাচুর্যের বাইরেও যার থাকবে আত্মসম্মানবোধ,গভীর যত্ন নিয়ে আগলে রাখার ক্ষমতা আর অফুরন্ত ভালোবাসা। যে ব্যকুল হয়ে অপেক্ষা করবে বেলাশেষে শেষ ট্রেনে কখন বাড়ি ফিরবো এই আশায়।  এই জীবন একটু ফুরসত নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ডুব দিতে চায়। পাহাড়ের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আগামীর...

Monologue- 29

ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। চা'ওয়ালা মামাকে বলে এক প্যাকেট কফি মিক্সড করে নিয়েছি। চিনি ছাড়া কড়া লিকারের কফি মিশ্রিত এ এক বিদঘুটে স্বাদ! স্বাভাবিক সময়ে হলে এ চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে আমার জিহ্বা ১২০ ভোল্টের শক খেতো কিন্তু এখনো তেমন কিছুই অনুভব করছি না। লাস্ট ২০ ঘন্টার ১৪ ঘন্টায় ঘুমিয়েছি। এরপর ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে টিউশনে গেলাম। পড়াতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো ঘুমে কথা জড়িয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি পড়ানো শেষ করে এসে মামার ভাসমান টি-স্টলে বসলাম। এ জায়গাটা আমার পছন্দের একটা জায়গা। সত্যি বলতে ফুটপাতে বসতে প্রথমদিকে অনেক মৌন বাধা কাজ করলেও, এখন বেশ মজায় লাগে! রাস্তার ভিখিরি থেকে শুরু করে জুতা সেলাই করা মামার নজরে পথচারীরা দেখতে কেমন, তা বুঝাতে পারা যায়।  ঘুমের আড়ষ্টতা যেন আস্তে আস্তে কাটছে মনে হচ্ছে। হঠাৎ কানে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম কোথা থেকে যেন। পুরুষ মানুষের কান্না। চারপাশে চোখ ভুলিয়ে বুঝতে পারলাম কিছুটা দূরে মধ্যবয়স্কা এক লোক কান্না করছে। হাতে বড়সড় একটা ফাইল, মেডিকেলের কাগজপত্র আর রিপোর্ট। ফোনে কারো সাথে কথা বলছে আর কান্না করছে। যতটুকু শুনতে পেলাম, উনার পরিবারের কারো কঠিন কিছু একটা হয়েছে। কান্নায় কেমন যেন...

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না

একটা সময় পর্যন্ত আমি আমার জীবনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোর আগা-মাথা মিলাতে পারতাম না। তখন শুধু মনে হতো, "এসব জিনিস আমার সাথেই কেন ঘটছে। আমার সাথে যত্তসব অন্যায় করতেছো খোদা"। তখন সব দোষ খোদার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে সহানুভূতি দিতাম। সেই ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে করতে শৈশবের একটা বড় অংশ পার করলাম। একদিন টেবিলে বসে অংক মিলাতে মিলাতে মনে হলো, "খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না। অংকের মতো সমাধান আগেই বের করে রাখেন তারপরও অংকের সমাধান খুঁজতে পৃথিবীতে পাঠান। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর ব্যস্ত হয়ে যায় আমোদ-প্রমোদে! ফুর্তি করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেই কেবল খোদাকে স্মরণ করি।"  আশ্চর্য, করতেছিলাম বীজগণিতের সরল অংক কিন্তু এসব আমার মাথায় কেন আসছিলো!!!  জীবনের একটা সময় পর্যন্ত আমার অভিযোগ আর অভিমানের সীমা ছিলো না। অনেক ভেবে দেখলাম, যে সময়টা পর্যন্ত আমি পরনির্ভরশীল ছিলাম সে-সময়টায় আমার সবথেকে অভিযোগ আর অভিমানবোধ বেশি কাজ করতো। চা যখন আপুরা বানিয়ে এনে সামনে দিতো, তখন চায়ে চুমুক দিয়ে দুধ-চিনি পরিমাণ নিয়ে সে কি অভিযোগ আমার! আম্মা রান্না করে খাবার যখন প্লেটে বেড়ে টেবিলে দিয়ে যেত, তখন ...

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...