পোস্টগুলি

I Love You ❤️

" I Love You ❤️", A beautiful sentence spoken in a beautiful way. অদ্ভুত এই বাক্য, সিঙ্গেলদের জন্য নাগালের বাইরের ব্যাপার-স্যাপার, প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অনেকটা তিনবেলা খাবার খাওয়ার মতো ভালোবাসা প্রকাশের সাধারণ বাক্য, অধিকাংশ স্বামী-স্ত্রীদের কাছে ব্যাকডেটেড বাক্যাংশ! আসলেই অদ্ভুত না? স্ট্যাটাসভেদে একেক শ্রেনির মানুষের কাছে একেক রকম ওজন বহন করে যেন। তবে এটা যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশসূচক বাক্য তার সাথে মোটামুটি সবাই এক মত। এমন কোনো মানুষ পাওয়া দুষ্কর, যে কখনো তার সঙ্গিনীকে একটিবারের জন্যেও বলেনি "I Love You!"। ভালোবাসার ধরন একেকজনের কাছে এক এক রকম। কেউ একযুগ ধরে ভালোবেসেও প্রকাশ করতে পারে না, কেউ ক্ষণিকের ভালো লাগা প্রকাশ করে পস্তায়! এই ভালোবাসা প্রকাশটাও এক অদ্ভুত জিনিস। কেউ ভালোবাসি মুখে না বলেও কাজেকর্মে  প্রকাশ করে, কেউ কাজেকর্মের চেয়ে সহাস্যে ভালোবাসি বলতে বেশি পছন্দ করে। তবে কি, ভালোবাসি বলার চেয়ে ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়াটা অনেক কঠিন। একদিন সাহস করে ভালোবাসি বলে ফেলা যায়,স্বপ্ন দেখিয়ে ভালোবাসার সওদা করে বেড়ানো সহজ। কিন্তু ভালোবাসি বলার পর শক্ত করে হাতটা ধরে বছরের...

বয়সের এই স্টেজে এসে.........

একটা বয়সে এসে আমরা আমাদের নিজের মতো মানুষ খুঁজি। যাদের সাথে নিজের মনমানসিকতার মিল হয়, যাদের সাথে মন খুলে দু'চারটা সুখ-দুঃখের কথা বলা যায়, যাদের সাথে নিজের মতামত তুলে ধরা যায় ফিরতি কোনো মতামতের আশায়। এক কথায় বলতে গেলে বয়সের এই স্টেজে এসে আমরা অ্যাম্বিভার্ট হতে চাই। Extrovert-দের আর cool মনে হয় না, cool মনে হয় না Introvert-দেরও ! বয়সের এই স্টেজে এসে আর Adult জোকস ক্র্যাক করতে ভালো লাগে না, ভালো লাগে না খাপছাড়া কোনো বিষয়ে কথা বলতে। এই বয়সে এসে গান থেকে বেশি Poetry ভালো লাগে, Jokes থেকে বেশি humor ভালো লাগে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে কে কি করছে, এর থেকে বেশি মুখ্য হয়ে ওঠে কে কেমন আছে এই বিষয়। আমরা এই সময় কারো দ্বারা যতো না প্রভাবিত হয়, তার থেকে বেশি তার প্রতি সচেতন হয়ে পড়ি। এক কথায় বলতে গেলে, এই সময়ে Circle of influence থেকে Circle of Concern বেশি কাজ করে।  বয়সের এই স্টেজে এসে এমন সার্কেল খুঁজে পাওয়া ভার, যার সাথে বলা যায় কাল রাতে কোন মুভিটা দেখে কান্না পেয়েছিলো, লাস্ট পড়ে শেষ করা বইটাকে নিয়ে করা যাবে আলোচনা সমালোচনা, যার সাথে করা যাবে ফেলে আসা অতীত আর উদ্বিগ্ন ভবিষ্যৎ এর চিন্তাভাবনা রিভা...

গড়পড়তার এক adaptive জীবন বনাম রুচিশীল Classical জীবন

আমাদের চারপাশে মানুষ সাধারণত দুই শ্রেণির হয়ে থাকে। এক শ্রেণির মানুষ গড়পড়তার এক adaptive জীবন চায়, আরেক শ্রেনির মানুষ এই একই জীবনটার সাথে রুচিশীল Classical  জীবন চায়। সহজ কথায় বলতে গেলে, প্রথম শ্রেনির মানুষ বাঁচার জন্য বাঁচতে চায়। আর দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ শখের জন্য বাঁচতে চায়। এদের মাঝে প্রথম শ্রেনির মানুষই বেশি। শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ!    দুই শ্রেনির মানুষই মৃত্যু পর্যন্ত বাঁচে। কিন্তু কে কতো সুন্দর করে বেঁচে থাকা দিনগুলোকে পার করছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। এদের মাঝে আবার কেউ নিজের জন্য বাঁচে, কেউবা আবার অন্যের জন্য। ব্রান্ডের ২ হাজার টাকার সেইম ডিজাইনারের টি-শার্ট লোকাল মার্কেটে ৫শ টাকায়ও পাওয়া যায়। ৫ হাজার টাকার ঘড়ি যেই সময় দেয়, আড়াইশ টাকার ঘড়িও সেই একই সময় দেয়। পার্থক্য কম্ফোর্ট এ, পার্থক্য মানসিক সন্তুষ্টিতে। বাইরে থেকে দুই শ্রেনির মানুষের জীবন দেখলেও অনেকটা একই। রাত সবারই কাটে, ক'জন আমাবস্যা আর পূর্ণিমার কৃষ্ণপক্ষ আর শুল্কপক্ষের হিসেব রেখে রাত গুনে সেটা এই দুই শ্রেনিরতে পার্থক্য সৃষ্টি করে। শাড়ির সাথে টিপ সব নারীই পরিধান করে। কিন্তু কয়জন ঠিক সাইজের, মানানসই রঙের টিপটা কপালে ঠিক...

যে জীবন কাক পক্ষির, মানুষ বিষাদগ্রস্ততার বিশারদ!

আপনার জীবন অন্য আট-দশটা জীবনের মতো না। আপনার জীবন একদম স্বতন্ত্র। এই চিন্তাধারা যতদিন না আপনার মস্তিষ্কে শীতল স্রোতধারা সৃষ্টি করবে, ততোদিন আপনার জীবন আপনার কাছে অনেক জটিল মনে হবে। আপনি চাইলেই আপনার আশপাশের মানুষের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করতে পারেন না। তুলনা করাটা সৃষ্টিকর্তা পাপ হিসেবে দেখেন কিনা জানা নেই আমার। তবে আমার কাছে মানবিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভীষন পাপ মনে হয়!  ছোটবেলায় জীবন এতো নিষ্পাপ, হাসিখুশি হওয়ার পেছনে সবথেকে বড় যে কারণ, তা হলো তখন জীবনে তুলনা করার প্রতিযোগিতাবোধ সৃষ্টি হয় নাই। যেইমাত্র স্কুলে ভর্তি করানো হয়, তখন প্রথমদিন থেকেই তাকে শিখানো হয় প্রতিযোগিতার লড়াই। সচেতন মানুষদের চোখে এ এক অসুস্থ বিনোদন!   এখন আমরা বড় হয়ে গিয়েছি। মানুষের সাথে তো বটেই ইট-পাথরের সাথেও পর্যন্ত আমাদের নিজেদের তুলনা করে বসি। আকাশের মতো বিশাল হতে চাই, কংক্রিটের প্রাচীরের মতো শক্ত হতে চাই, হাই স্পিড রেসিং কারের মতো জীবন নিয়ে ছুটতে চাই। অথচ দিনশেষে, আমি আর আমার নিজের মতোই হয়ে ওঠতে পারি না! একদিন হয়তো তীব্র বিষাদ নিয়ে মারা যাবো, মরে যাওয়ার পরও মানুষ লাশের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ...

আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?

আমি মাঝে মাঝে puzzled হয়ে পড়ি। তখন সময় এমন প্রতিকূলে বয়ে চলে যে, নিজেকে তীব্র অসহায় মনে হয়। এতো এতো পেন্ডিং টাস্ক, জমে থাকা কাজ, এর উপর যুক্ত হওয়া এক্সট্রা প্রেশার, সবকিছু মিলিয়ে যাচ্ছেতাই একটা অবস্থা!  চোখের কোণের অসমাপ্ত ঘুম, ক্লান্ত দেহ জানান দিতে থাকে যে, বিশ্রাম বিহীন এই দেহ ফুরিয়ে যাওয়া ডিজেলে চলা গাড়ির মতো। মাঝে মাঝে আমি এমন সিচুয়েশনে তীব্র অসহায় চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। এ বিশালতার মাঝেও এই ক্ষুদ্র নিজের দুঃখ-কষ্ট আর ব্যস্ততাগুলোকে কেন এতো বেশি ভারী মনে হয়, তার হিসেব মিলাতে পারি না কোনোভাবেই!  একটা সময় ছিলো আমিও কবিতা লিখতাম। কী সুন্দর করে, শান্ত মনে বসে কবিতার ছন্দ মিলাতাম। এখন আর সেই শান্ত মন নেই, চঞ্চলতাও নেই। আছে শুধু অনেক দিনের জমে থাকা তীব্র এক দীর্ঘশ্বাস! এখন কলম নিয়ে বসলে আর কবিতা বের হয় না। "আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?"  এই প্রশ্ন ভীষণ এক Paradox ! 

এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়

একদিন এই নীরব যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরবো। এই যুদ্ধে পাওয়া আর হারানোর হিসেব এর আর কোনো মূল্য থাকবে না তখন। যা কিছু হারাবার তা মেনে নিয়ে যা কিছু পেয়েছিলাম, তাও পেছনে ফেলে একদম রিক্ত শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবো। একদম একা, নিঃস্ব হয়ে পার্থিব সব চাহিদা ভুলে গিয়ে বাড়ি পৌঁছাবো সেদিন! মাথার উপর বিশাল আকাশটার কয়েক হাত দেখতে পাবো শুয়ে শুয়ে। ঘাড় ফিরিয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যাবে না, পূর্ণিমার আলো দেখতে পেলেও চাঁদ টাকে দেখতে পাবো না ঠিক মতো।  সেদিন ফেলে আসা মানুষ, রেখে আসা কর্ম নির্ধারণ করবে আমার সেই চিরস্থায়ী স্থান হবে নেক্রপলিসে নাকি অতিসাধারণ কোনো কবরস্থানে। আমার নামের পাশে লিখা পড়াশোনা, পদমর্যাদা, পেশা সবকিছু মুঁছে গিয়ে এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়। মেডিটেশন করতে যেই আর্টিফিশিয়াল মিউজিক শুনি শব্দ দূষণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে, তখন আর এর প্রয়োজন হবে না। ঝিঁঝি পোকাদের রিরি শব্দ আর বাতাসের মৃদু গুঞ্জন আমায় অতল ঘুমে তলিয়ে দিবে!