পোস্টগুলি

গড়পড়তার এক adaptive জীবন বনাম রুচিশীল Classical জীবন

আমাদের চারপাশে মানুষ সাধারণত দুই শ্রেণির হয়ে থাকে। এক শ্রেণির মানুষ গড়পড়তার এক adaptive জীবন চায়, আরেক শ্রেনির মানুষ এই একই জীবনটার সাথে রুচিশীল Classical  জীবন চায়। সহজ কথায় বলতে গেলে, প্রথম শ্রেনির মানুষ বাঁচার জন্য বাঁচতে চায়। আর দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ শখের জন্য বাঁচতে চায়। এদের মাঝে প্রথম শ্রেনির মানুষই বেশি। শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ!    দুই শ্রেনির মানুষই মৃত্যু পর্যন্ত বাঁচে। কিন্তু কে কতো সুন্দর করে বেঁচে থাকা দিনগুলোকে পার করছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। এদের মাঝে আবার কেউ নিজের জন্য বাঁচে, কেউবা আবার অন্যের জন্য। ব্রান্ডের ২ হাজার টাকার সেইম ডিজাইনারের টি-শার্ট লোকাল মার্কেটে ৫শ টাকায়ও পাওয়া যায়। ৫ হাজার টাকার ঘড়ি যেই সময় দেয়, আড়াইশ টাকার ঘড়িও সেই একই সময় দেয়। পার্থক্য কম্ফোর্ট এ, পার্থক্য মানসিক সন্তুষ্টিতে। বাইরে থেকে দুই শ্রেনির মানুষের জীবন দেখলেও অনেকটা একই। রাত সবারই কাটে, ক'জন আমাবস্যা আর পূর্ণিমার কৃষ্ণপক্ষ আর শুল্কপক্ষের হিসেব রেখে রাত গুনে সেটা এই দুই শ্রেনিরতে পার্থক্য সৃষ্টি করে। শাড়ির সাথে টিপ সব নারীই পরিধান করে। কিন্তু কয়জন ঠিক সাইজের, মানানসই রঙের টিপটা কপালে ঠিক...

যে জীবন কাক পক্ষির, মানুষ বিষাদগ্রস্ততার বিশারদ!

আপনার জীবন অন্য আট-দশটা জীবনের মতো না। আপনার জীবন একদম স্বতন্ত্র। এই চিন্তাধারা যতদিন না আপনার মস্তিষ্কে শীতল স্রোতধারা সৃষ্টি করবে, ততোদিন আপনার জীবন আপনার কাছে অনেক জটিল মনে হবে। আপনি চাইলেই আপনার আশপাশের মানুষের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করতে পারেন না। তুলনা করাটা সৃষ্টিকর্তা পাপ হিসেবে দেখেন কিনা জানা নেই আমার। তবে আমার কাছে মানবিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভীষন পাপ মনে হয়!  ছোটবেলায় জীবন এতো নিষ্পাপ, হাসিখুশি হওয়ার পেছনে সবথেকে বড় যে কারণ, তা হলো তখন জীবনে তুলনা করার প্রতিযোগিতাবোধ সৃষ্টি হয় নাই। যেইমাত্র স্কুলে ভর্তি করানো হয়, তখন প্রথমদিন থেকেই তাকে শিখানো হয় প্রতিযোগিতার লড়াই। সচেতন মানুষদের চোখে এ এক অসুস্থ বিনোদন!   এখন আমরা বড় হয়ে গিয়েছি। মানুষের সাথে তো বটেই ইট-পাথরের সাথেও পর্যন্ত আমাদের নিজেদের তুলনা করে বসি। আকাশের মতো বিশাল হতে চাই, কংক্রিটের প্রাচীরের মতো শক্ত হতে চাই, হাই স্পিড রেসিং কারের মতো জীবন নিয়ে ছুটতে চাই। অথচ দিনশেষে, আমি আর আমার নিজের মতোই হয়ে ওঠতে পারি না! একদিন হয়তো তীব্র বিষাদ নিয়ে মারা যাবো, মরে যাওয়ার পরও মানুষ লাশের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ...

আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?

আমি মাঝে মাঝে puzzled হয়ে পড়ি। তখন সময় এমন প্রতিকূলে বয়ে চলে যে, নিজেকে তীব্র অসহায় মনে হয়। এতো এতো পেন্ডিং টাস্ক, জমে থাকা কাজ, এর উপর যুক্ত হওয়া এক্সট্রা প্রেশার, সবকিছু মিলিয়ে যাচ্ছেতাই একটা অবস্থা!  চোখের কোণের অসমাপ্ত ঘুম, ক্লান্ত দেহ জানান দিতে থাকে যে, বিশ্রাম বিহীন এই দেহ ফুরিয়ে যাওয়া ডিজেলে চলা গাড়ির মতো। মাঝে মাঝে আমি এমন সিচুয়েশনে তীব্র অসহায় চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। এ বিশালতার মাঝেও এই ক্ষুদ্র নিজের দুঃখ-কষ্ট আর ব্যস্ততাগুলোকে কেন এতো বেশি ভারী মনে হয়, তার হিসেব মিলাতে পারি না কোনোভাবেই!  একটা সময় ছিলো আমিও কবিতা লিখতাম। কী সুন্দর করে, শান্ত মনে বসে কবিতার ছন্দ মিলাতাম। এখন আর সেই শান্ত মন নেই, চঞ্চলতাও নেই। আছে শুধু অনেক দিনের জমে থাকা তীব্র এক দীর্ঘশ্বাস! এখন কলম নিয়ে বসলে আর কবিতা বের হয় না। "আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?"  এই প্রশ্ন ভীষণ এক Paradox ! 

এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়

একদিন এই নীরব যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরবো। এই যুদ্ধে পাওয়া আর হারানোর হিসেব এর আর কোনো মূল্য থাকবে না তখন। যা কিছু হারাবার তা মেনে নিয়ে যা কিছু পেয়েছিলাম, তাও পেছনে ফেলে একদম রিক্ত শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবো। একদম একা, নিঃস্ব হয়ে পার্থিব সব চাহিদা ভুলে গিয়ে বাড়ি পৌঁছাবো সেদিন! মাথার উপর বিশাল আকাশটার কয়েক হাত দেখতে পাবো শুয়ে শুয়ে। ঘাড় ফিরিয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যাবে না, পূর্ণিমার আলো দেখতে পেলেও চাঁদ টাকে দেখতে পাবো না ঠিক মতো।  সেদিন ফেলে আসা মানুষ, রেখে আসা কর্ম নির্ধারণ করবে আমার সেই চিরস্থায়ী স্থান হবে নেক্রপলিসে নাকি অতিসাধারণ কোনো কবরস্থানে। আমার নামের পাশে লিখা পড়াশোনা, পদমর্যাদা, পেশা সবকিছু মুঁছে গিয়ে এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়। মেডিটেশন করতে যেই আর্টিফিশিয়াল মিউজিক শুনি শব্দ দূষণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে, তখন আর এর প্রয়োজন হবে না। ঝিঁঝি পোকাদের রিরি শব্দ আর বাতাসের মৃদু গুঞ্জন আমায় অতল ঘুমে তলিয়ে দিবে! 

Passion ছেড়ে Professional হয়ে উঠে চব্বিশের সদ্য গ্রেজুয়েট!

দুই যুগ পার করে ফেলা যুবকের ঠোঁটের কোণে ক্লান্তির হাসি। ফেলে আসা বয়সের সমীকরণ মিলাতে গেলে কেন যেন ফলাফল শূন্যে এসে নামে বারবার। এই যে পাওয়া না পাওয়ার দায়ভার, তা কেবল একান্তই নিজের কাঁধেই নিতে হয়। যে বয়সে এসে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতো সে, সেই বয়সে এসে যখন বুঝতে পারে পায়ের নিচের মাটি-ই এখনো শক্ত করতে পারেনি সে!  নিজের চাহিদার কথা কাউকে বলতে না পারার যেই হাপিত্যেশবোধ, একে একে স্বপ্নগুলো অপূর্ণ থেকে যাওয়ার যেই ক্লান্তি, তা নির্ঘুম এই দুচোখের দিকে তাকালে যে-কেউ বুঝতে পারবে। এই দুই যুগে দুই ডজনেরও বেশি মানুষ হারিয়েও নির্বাক যুবক। নিবার্ক না হওয়ারও কারণ দেখছি না! রোজ নিয়ম করে মানুষ আসে, নিয়ম করে মন ভেঙে দিয়ে যেতে যেতে মনকে পাথর করে দিয়ে গেছে। এখন আর পাথরের প্রাচীর ভেদ করে ওপাশটায় পৌঁছায় না কিছু।  জীবনকে গতিশীল ভাবতে ভাবতে এতো এতো মানুষকে পেছন ফেলে আসতে হয়েছে যে, এখন আর নিজের মানুষ, নিজের আত্মীয়স্বজন বলতে আর কেউ নেই। সাফল্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে উপলব্ধি করতে পারছে যে, দিনশেষে সাফল্য এক মরীচিকা মাত্র। এই মরীচিকা নামক গন্তব্যের দূরত্ব অসীম।  এই দুই যুগ পেরোনো বয়স, বাকি চার যুগ বাঁচার ...

High valued Partner

Rafsan Sabab, Esha, এবং Xefer-এদের ঘটনায় আমি জানি না রাফসান এর দোষ কতটুকু, ঈশা-ই-বা কতটুকু নির্দোষ, জেফার-ই-বা কতটুকু খারাপ! এদের কারোরই ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলানোর অধিকার আমাদের নেই। হ্যা, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি অন্যায়ের। কিন্তু সেটা জেনে, বুঝে করা উচিত। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারটাকে নিয়ে রীতিমতো ট্রল, মিম বানিয়ে নিজেদের পার্সোনাল এ্যাটাকে নিয়ে যাচ্ছি। ব্যাডা জাত, হেহ হেহ, ব্যাডি মানুষ, হেহ হেহ , ফালতু সব ক্যাপশন দেখতে পাচ্ছি। প্রতিবাদের নামে বডি শেমিং করছি আমরা। একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের চরিত্রে আঙ্গুল তুলতে দেখছি কত সহজে! এই যুগে Cheat করা অনেক সহজ  কাজ। আমরা একে রীতিমতো  Coolness এবং  Social Taboo বানিয়ে ফেলেছি। অধিকাংশ ছেলেদের আড্ডার হট টপিক কয়টা মেয়ের সাথে ডেট করলো,অধিকাংশ মেয়েদের আড্ডার টক অফ দ্যা টেবিল, " কার কয়টা বয়ফ্রেন্ড, কোনটা বেটার"। যখন জৈবিক চাহিদা এককেন্দ্রিক না থাকলে আর নীতি-নৈতিকতার মৃত্যু ঘটলে তখন Cheat করা , পরকীয়া করা ব্যাপারগুলোর উদয় ঘটে।  আমাদের হাতে এখন প্রচুর অপশন, অনেক অপরচুনিটি। কারণ, এখন আর মানুষ আগের মতো ভালো মন, পবিত্র ভালোবাসা খুঁজে ...