পোস্টগুলি

পজিটিভ এনার্জি

এই যে জীবনের এতো উত্থান-পতনের মাঝে মুখে হাসি নিয়ে প্রতিটা দিন বেঁচে থাকা, এর থেকে বড় কাজ আর কী-বা হতে পারে। হাসি এমন এক কনফিডেন্স জোগায় যে, জীবনের অর্ধেক সমস্যার সমাধানের কূল হয়ে যায় হাসির মাধ্যমেই । এই দুঃখ- দুর্দশার সময়ে চেহারায় হাসি ধরে রাখতে পারাটাও একটা আর্ট! আপনার প্রতিকূল সময়ে যেদিন দেখবেন আপনি আর চেহারায় হাসি ধরে রাখতে পারছেন না, সেদিন বুঝবেন আপনার মহামূল্যবান একটা স্কিল আপনি হারাতে বসেছেন। ঝড় যত বেশিই হোক, ব্রজপাতের ভয়ে গাছতলায় দাঁড়িয়ে মারা যাওয়ার থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে এগিয়ে অন্তত বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে মরাও ভালো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় বজ্রপাত পড়ার আগেই বাড়ি পৌঁছে যেতে পারবেন। প্রতিকূলতা আমাদের যতটুকু না ক্ষতি করে দেয়, তার থেকে বেশি ক্ষতি করে বসি এই সময়টায় নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করে। আমি তীব্র ঝড়ে মাঝ নদীতে হাসিমুখে জেলেদের মাছ ধরতে দেখেছি। মৃত্যুর ভয়ের চেয়ে উপরওয়ালার প্রতি ভরসায় এদের বেশি। আমি রমজান মাসে প্রখর রোদে জ্যামে বসে রিকশাওয়ালা মামাকে শুকনো ঢোক গিলতে দেখেছি। উনার কষ্ট হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করলে হাসি মুখে উত্তর দিচ্ছে, "উপরওয়ালার দেওয়া পরীক্ষা মামা, উনিই পাশ করাইবো...

প্রেমিকা বনাম ম্যাচিউরিটি

প্রেমিকা এতো ম্যাচিউরড ক্যান হতে হবে? তার তো এতো সমাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, না জানলেও হবে। তাকে কেন আগে থেকে রাস্তা পার হওয়া জানতে হবে, শাড়ি পড়া শিখতে হবে, রান্নাবান্না জানতে হবে। এসব শিখিয়ে দেওয়ার জন্য প্রেমিক বেচারার সারা জীবন তো পরে আছেই! তাহলে প্রেমিকা নির্বাচনে এতো জাত-পাত আর ক্লাস মেজারমেন্ট কেন? প্রেমিকার ভেতর থাকবে পাগলামি, বাচ্চামি আর হাসি-খুশিতে ভরপুর একটা পজিটিভ এনার্জি । ওভার ম্যাচিউরড কিংবা সম্পূর্ণ আত্মকেন্দ্রিক মেয়েগুলো হয়তো একদিন সংসারী হয়ে উঠে, কিন্তু কখনোয় প্রেমিকা হয়ে উঠতে পারে না! আমাদের সবার ভেতরই কিছু না কিছু শিশুসুলভ আচরণ থাকে, সেগুলো আমরা প্রকাশ করি ভালোবাসার মানুষটার সাথে। বাইরের দিক থেকে আপনি যতোই আয়রনিক হোন না কেন, দিনশেষে ঐ একটা মানুষের কাছে গিয়ে আপনি আইসক্রিমের মতো গলে যান। একটা বার ভাবুন তো, সারাদিনের ঝক্কি-ঝামেলা শেষ করে প্রেমিকার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে ১৫মিনিট দেরি হওয়ায়, এর জন্য আপনাকে টাইম সেন্স নিয়ে ভাষণ শুনতে হচ্ছে। অনেকে একে প্রেমিকার আদর বললেও, আমি সম্পর্কের রেড ফ্ল্যাগ হিসেবেই বিবেচনা করি! আপনি আপনার লিস্টের ডজনখানেক মেয়েকে পাত্তা না দিয়ে একটা মেয়ের প...

সুইসাইড, আ স্কুল অব থটস

এই যে প্রতিদিন এতো এতো সুইসাইডের কেস, কিন্তু কেন? অনেকে এদের পারিবারিক সমস্যা কিংবা দুর্বলচিত্তকে দায়ী করছে। আমার কাছে এসব বাদেও সব থেকে বড় যে কারণ তা এদেশের বাজে এডুকেশন সিস্টেম এবং ভার্চুয়াল লাইফকে মনে হয়। আমরা এমন এক এডুকেশন সিস্টেমের মধ্য দিয়ে জীবনের ২৪-২৫ বছর কাটিয়ে দেয় যে,বের হওয়ার পর আর হিসেব মিলাতে পারি না এতোদিন কী শিখলাম,কিসের জন্য শিখলাম! যে ক্যারিয়ারের জন্য এতো পড়াশোনা অথচ সে ক্যারিয়ারের সাথে একাডেমিক লাইফের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে আমরা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছি, তাদের অবস্থা তো আরো বেশি নাজেহাল। মুখস্থ বিদ্যা ভালো লাগে না বলে জেনারেল আর মেডিকেলের প্রিপারেশন না নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা। স্কিল ডেভেলপমেন্ট আর ইনোভেশনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা। অথচ এই সিস্টেমের ভেতর ঢুকে জানপ্রাণই হতাশ। এখানে যে যত শীট চাটতে পারে, তার সিজি ততো হাই! কোড মুখস্থ করে ল্যাব পাশ করতে হয়। আর জেনারেল সাবজেক্টে যারা পড়াশোনা করছে, তাদের অবস্থা তো আরো বেশি নাজুক। তারা অধিকাংশই ভার্সিটি লাইফটাকে চিল মনে করে আকাশে উড়তে উড়তে গ্র্যাজুয়েশনের পর ধপাস করে আকাশ থেকে মাটিতে পরে। অনেকেই বিসিএস ক্যাডা...

মন খারাপ ও আমি

মাঝে মাঝে হুট করে তীব্র মন খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ এই মন খারাপের কোনো কারণ খুঁজে পাই না তখন। সূক্ষ্ম এই মন খারাপবোধ ভেতরটা কেমন যেন শূন্য করে তুলে। তখন কোনো কাজ করে শান্তি পাই না, প্রিয় বইটা নিয়ে বসতেও আগ্রহও খুঁজে পাই না। লিখতে বসে কলম নাচাই কিন্তু কোনো লিখা বের হয় না! চা-কফির স্বাদটদকেও তখন তিক্ত মনে হয়।সব মিলিয়ে তীব্র এক অশান্তি যাকে বলে। মন খারাপ ছোঁয়াচে এক রোগ, এটা ভেবে কারো সাথে শেয়ার করতেও ভালো লাগে না। নিজেকে একদম একাকী করে রাখতে মনে চাই। সব কিছু থেকে গুটিয়ে, সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে মনে চাই।

সব পেতে গিয়ে আমরা একা হয়ে যায়

একদিন সব হবে। যা যা চাই, সব পেয়ে যাবো। কিন্তু যেই জিনিসটা খুব করে চাইতাম যে না হোক, সেটাও পেয়ে যাবো!  একদিন প্রচুর টাকা হবে, টাকা দিয়ে সুখ কিনে নিবো। কিন্তু যাদের জন্য সুখ কিনতে চাইতাম, যাদেরকে নিয়ে সুখী হতে চাইতাম, সেদিন তারায় থাকবে না! একদিন সকল ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে একটা বিকেল সমুদ্রের তীরে বসে সূর্যাস্ত দেখে কাটিয়ে দিবো। কিন্তু সেদিন যাকে নিয়ে সূর্যাস্ত দেখার কথা ছিল, হঠাৎ মনে পড়বে সে তো পাশে নেই। একদিন পাহাড়ে চলে যাবো, ভোরের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে কান পেতে পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে শুনতে দিনটা শুরু করবো। কিন্তু পাহাড়ে ওঠতে ওঠতে সেদিন আবিষ্কার করবো আগের এনার্জিটুকু আর এখন নেই, ভোর দেখার মতো দৃষ্টিশক্তি আর পাখিদের কিচিরমিচির শোনবার মতো শ্রবণশক্তি আগের মতো আর নেই!  একদিন কফি ডেইট এ যাবো। একদম অনাড়ম্বর ডেইট যাকে বলে। আমাদের সঙ্গে থাকবে না ডিস্ট্রাক্ট করার মতো কোনো ডিজিটাল ডিভাইস। ছবি তোলার কোনো বাতিক থাকবে না সেদিন, ফোন কল এসে বিরক্ত করার মতো কোনো অপশনও থাকবে না সেদিন। সেদিন ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো মিউজিক বাজবে না। সেদিন বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হবে। কিন্তু সেদিন কফির ক্যাফেইনের ঘোরে সামন...

Monologue - 18

রাত ১টা বেজে ৫ মিনিট। রুমের লাইট অফ, ল্যাপটপের স্কিনে মিডিয়ামে ব্লগ পড়ছিলাম। হঠাৎ করে খোলা জানালার দিকে চোখ পড়তেই দেখি বাইরে কতো সুন্দর পূর্ণিমা। আধখোলা জানালা সবগুলো খুলে দিলাম। রূপালি চাঁদের আলো জানালার গ্রীল বেয়ে মেঝেতে এসে পড়ছে। অন্ধকার রুমটা এক অন্যরকম আলোয় ভরে গেল। জানালা দিয়ে বাইরে নতুন টিনের চাল দেখা যাচ্ছে। সেখানে পূর্ণিমার আলো পড়ে এর প্রতিফলন এসে আমার চোখে পড়ছে। জানালা দিয়ে এক দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছি আর বিড়বিড় করছি, "পূর্ণিমা সুন্দর, ভয়ঙ্কর সুন্দর। প্রেমিকার কাজল কালো চোখের চেয়েও সুন্দর !" এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কেন জানি রূপার জন্য মায়া হতে লাগলো আমার, হিমুর জন্য ক্রোধ টের পাচ্ছি। এই ভরা জ্যোৎস্নায় এক রূপবতী মেয়ে নীল শাড়ি পড়ে একটা ভ্যাগাবন্ডের জন্য অপেক্ষা করছে সে আসবে না জেনেও, ভালোবাসায় এ কি অন্যায়! ব্যাপারটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যাই। হিমুদের কেন মহাপুরুষই হতে হবে? রূপার মতো মেয়েদের মনে কষ্ট দেওয়ায় কি মহাপুরুষদের কাজ? আমি অন্তত এই পূর্ণিমার রাতটুকুই চাইবো হিমু অতি সাধারণ এক প্রেমিক পুরুষ হয়ে পড়ুক, যে রূপার সব অপেক্ষার অবসান ঘুচিয়ে দিবে। রূপার চোখে চোখ রেখে বলে দিব...