পোস্টগুলি

আচ্ছা প্রতিটা মুভির যেমন একটা স্পয়লার(spoiler) থাকে ঠিক তেমনিভাবে যদি কেউ এসে আমার জীবনের স্পয়লার(spoiler)টা বলে দেই তখন?

মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি,"আচ্ছা প্রতিটা মুভির যেমন একটা স্পয়লার(spoiler) থাকে যা মুভি দেখার আগেই কেউ বলে দিলে মুভি দেখার মজাই শেষ ঠিক তেমনিভাবে যদি কেউ এসে আমার জীবনের স্পয়লার(spoiler)টা বলে দেই তখন?তখন কী হবে??? জীবন সেখানেই থেমে যাবে নাকি আশা আর সম্ভাবনা আরো বাড়বে?!  ডাইরি লিখার নেশাটা একদম চলেই গিয়েছে।আসলে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপর থেকে যখন জীবনের সবথেকে মূল্যবান সময়টার ডাইরিগুলো ফেলে আসলাম, তখন থেকে আর ডাইরি লিখতে ভালে লাগে না।  জীবনে ঘটা প্রত্যেকটা সম্পর্কের শেষটা অনেক জটিল লাগে এখন!  আগের আমি আর বর্তমানের আমি, এই দুইয়ের মাঝে এখন আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখতে পাই!  বর্তমান পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করার চিন্তা মাথায় আসলেই মাথাব্যথা শুরু হয়ে যাই,তারপরও আজ লিখতে বসেছি।কাটা-হাতে লিখতে কষ্ট হচ্ছে! তারপরও বারান্দায় এসে লিখতে বসেছি।কারণ বর্তমানটা গুছাতে না পারলে সামনের কাজগুলো এলেমেলো হয়ে রয়ে যাবে। পারিবারিক, ব্যক্তিগত এবং পারিপার্শ্বিক সবকিছু এমনভাবে মানসিক চাপের মধ্যে রাখছে যে আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতেও পারছি না। জীবনে এক্সপেরিয়েন্স চেয়েছিলাম কিন্তু এতো এতো এক্সপেরিয়েন্সের এক...

ভালোবাসার অনাদায়

প্রেমিক হিসেবে একজন লেখক এবং প্রেমিকা হিসেবে একজন লেখিকা বেস্ট। আর যদি দুজনই লেখক-লেখিকা হয় তাহলে তো কথায় নেই! একদম পারফেক্ট কম্বো জুটি।  আমি স্বভাবজাতই লেখক ছিলাম।সম্পর্কের শুরুটা থেকেই তাই আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি তোমাকে লেখিকা হিসেবে তৈরি করতে। তাই সম্পর্কে ডিজিটাল এ-ই প্রেমের দুনিয়ার আচঁ পড়তে দেয় নি। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে তাই আমাদের মাঝে চিরকুট চালাচালি চলতোই৷ মাঝে মাঝে যখন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পরতাম তখন অর্ধশতাধিক লাইনের  কবিতা কিংবা পাঁচ-দশ পৃষ্টার হাতে লিখা চিঠি লিখে সুন্দর কোনো খামে কিংবা উপহারের সাথে তোমাকে পৌঁছে দিতাম। তখন আমাদের ফিলোসোফিটায় এমন ছিল যে আমাদের লেখাগুলোই আমাদের কেয়ারিং এর পরিমাপক!  তুমি লিখতে,  খুব ভালো লিখতে যে ঠিক তা না। একজন লেখক হিসেবে যতটুকু উপাদেয় আমার আশা করার ছিল ততটাও ভালো লেখতে না। কিন্তু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে সেই অনভ্যস্থ হাতের লিখাগুলোই আমার ভালো লাগতো, বিশ্বাস করতাম তুমিও একদিন তোমার লেখায় প্রাণ খুঁজে পাবে৷ আমি উপলব্ধি করতাম তোমার লিখতে ভালো লাগে না,  তুমি জোর করে লিখো, আমার জন্য লিখো, আমাকে খুশি করতে লিখো।কারণ ওই একটা জ...

FriendZone to ProfessionalZone Transaction

একটা সময় ছিল তখন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম, " সবার বাবাদের কেন আমাদের মতো এতো এতো বন্ধু নেই?  তারা এমন গম্ভীর হইয়ে থাকে কীভাবে?  আচ্ছা, তারা কী কখনো হাসে না? তারা দুপুরে খেলতে বের হলে কেন বকাবকি করে তাদের কী খেলতে মনে চাই না? "  ক্লাস সেভেন-এইটের ডাইরিগুলো নিয়ে বসলে ক্ষোভ নিয়ে লিখা সেই বাক্যগুলো এখন প্রচুর হাসায়! 😄 লোকে বলে "সময় অনেক কিছুর উত্তর বহন করে "। এখন যেন সেই কথাটা হারে হারে বুঝতে পারছি সামনে হয়তো আরও ভালোভাবে অনুধাবন করব। কিন্ডারগার্টেন লাইফে যেই ফ্রেন্ডগুলোকে নিয়ে পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম আজ ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে স্বপ্নগুলো বিচ্ছিন্নই হয়ে গেল!   হাই-স্কুল লাইফে এসে টিফিন টাইমে যে ক্রিকেট টিমটা করে সামনে আরো ভালো করার স্বপ্ন দেখতাম সেই টিমের ১১ জনের জীবনের মোড় এখন ১১ দিকে!   স্কুল জীবনে সায়েন্স প্রজেক্টে যখন ঠিকঠাকভাবে আউটপুট আসতো তখন সেই কর্পোরেট হ্যান্ডশ্যাক আর নিজেদের বিশাল বিজ্ঞানমনস্ক  কিংবা গল্পের বই পড়ুয়া দুজন জাফর ইকবাল স্যারের এনিম্যান কিংবা প্রজেক্ট নেবুলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতাম তখন স্বপ...

মায়া( হিমু সিরিজ -০৪)

আজকাল অদ্ভুত একটা শখ পেয়ে বসেছে মনে! রূপার দেওয়া ডাইরিটা পাওয়ার পর থেকে ডাইরিটা যেন নিজ থেকে আমাকে ডাকছে। আর্টিফিশিয়াল লেদারের ডাইরিটা যে-কেউ দেখলেই রূপার পছন্দের প্রশংসা না করে পারবে না একথা আমি হলফ করে বলতে পারি। কিন্তু আমি তো হিমু, আর হিমুরা কখনো আবেগ প্রকাশ করে না তাই উপহারটা নিতান্তই নেওয়ার জন্য নিয়েছি এমন অভিনয় করে ডাইরিটা গ্রহণ করেছিলাম। এখন দেখছি ডাইরি লিখার আগ্রহটা ক্রমশই গাঢ় হচ্ছে। রপা অবশ্য ডাইরিটা দিয়ে বলেছিল, " তুৃমি তো আমার কথা কখনও ভাবো না, আমার কথা মনেও করো না, আমি তোমার আর পূর্ণিমার মাঝে ফিলোসোফিটা বুঝতে চাই। তাই তুমি এখন থেকে ডাইরি লিখবে আমি তোমার অনূভুতি আর চিন্তাভাবনার জগৎ জানতে চাই। " রূপা যখন তার আহ্লাদ নিয়ে রাগী রাগী ভাব নেওয়ার চেষ্টা করে তখন মনে হয় আমার সামনে এ যেন আমার দেখা সবথেকে সুন্দরী মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। একদিন হয়তো বলেই বসবো," রূপা এভাবে আরো কিছুক্ষণ আমার সামনে বসে থেকো, তোমাকে এই গাম্ভীর্য্যেই অনেক মানায়! " ওর দেওয়া ডাইরিটা আর টেবিলের উপর ক্যাপহীন কলমটা তুলে নিলাম। এমনি সময় কারেন্টটা চলে গেল! খোলা জানালা দিয়ে পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলো যেন ...

ভালোবাসা অমর মানুষগুলো নয়

বসন্তের প্রথম বৃষ্টি আর তোমার সেই প্রথম ছোঁয়ায়            আমি আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়, মন খারাপ করা ঘরবন্দী সন্ধ্যা আর তোমার ছেড়ে যাওয়ায়           আমি আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়।  সম্পর্কের শংকায় যখন অস্থির হয়ে যেতাম তখন তোমার  সেই আশ্বস " এতো ভেবো না, আমাদের ভালোবাসা অমর",            এখন একাধিক জন্মদিন চলে যাচ্ছে             অথচ এখন কেউ কারো নেই না খবর !             তোমার কাজল কালো চোখের মায়ায়, সৌন্দর্য্য আর কাব্যিকতার মাঝে আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়       সেই অপরিচিত দুটো মুখ হতে চেনা মুখ হওয়ার গল্প                      আমি আজও সাজায়,                সেই গল্পে চরিত্রগুলো বদলায়                   কিন্তু গল্পটা আমাদেরটায়।     ৭৫লাইনের কবিতার লাইনগুলো আজ...

ম্যাচুুউরড স্বার্থপর

স্বার্থপর মূলত দুইরকমের হয় -  ১. স্বভাবগত  ২. ম্যাচুরিটি প্রথম প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে আমার কিছু বলতেই হয়। কারণ এটা আমি নিজেই এবং এ নিয়ে প্রায় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়!   কিছু কিছু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে  যেখান থেকে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায় তার জীবনেও অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল, অনেক পাগলামো ছিল, ছিল অনেক স্বপ্ন যা কল্পনা থেকে বাস্তবে পেতে যা করার তার সবটুকুই করার চেষ্টা করতো সে। কলেজ জীবনটা পর্যন্ত সবকিছু সাজানো গোছানো এবং চারদিকে স্বপ্নের ছড়াছড়ি দেখতাম। পত্রিকার ভাঁজে "নৌবাহিনী" কিংবা " সেনাবাহিনী" এর ছোট বিজ্ঞাপনটায় চোখ রাখতে রাখতে নিজেকে সাদা পোষাকে কিংবা বন্দুক হাতে শান্তিরক্ষা মিশনে আছি সেই স্বপ্নের জালে বুনে ফেলতাম। নেবি'র একটা পরীক্ষাই বুঝিয়ে দিল স্বপ্নের বাজারে আমি যতই পরিপক্ক হয় না কেন চাকরির বাজারে আমি কতোটা অপরিপক্ক! পরিবার, অর্থনীতি,সমাজনীতি সবকিছুর চাপ তো তখনও তেমন দেখিই নি বলতে গেলে।  কিন্তু আজ যখন আমি এই অবস্থায় দাড়িয়ে, এতোকিছুর পর যখন বুঝতে পারলাম এক মরু ঝড় এসে অতীতের সবকিছু তলিয়ে দিয়ে গেছে...