পোস্টগুলি

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না

একটা সময় পর্যন্ত আমি আমার জীবনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোর আগা-মাথা মিলাতে পারতাম না। তখন শুধু মনে হতো, "এসব জিনিস আমার সাথেই কেন ঘটছে। আমার সাথে যত্তসব অন্যায় করতেছো খোদা"। তখন সব দোষ খোদার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে সহানুভূতি দিতাম। সেই ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে করতে শৈশবের একটা বড় অংশ পার করলাম। একদিন টেবিলে বসে অংক মিলাতে মিলাতে মনে হলো, "খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না। অংকের মতো সমাধান আগেই বের করে রাখেন তারপরও অংকের সমাধান খুঁজতে পৃথিবীতে পাঠান। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর ব্যস্ত হয়ে যায় আমোদ-প্রমোদে! ফুর্তি করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেই কেবল খোদাকে স্মরণ করি।"  আশ্চর্য, করতেছিলাম বীজগণিতের সরল অংক কিন্তু এসব আমার মাথায় কেন আসছিলো!!!  জীবনের একটা সময় পর্যন্ত আমার অভিযোগ আর অভিমানের সীমা ছিলো না। অনেক ভেবে দেখলাম, যে সময়টা পর্যন্ত আমি পরনির্ভরশীল ছিলাম সে-সময়টায় আমার সবথেকে অভিযোগ আর অভিমানবোধ বেশি কাজ করতো। চা যখন আপুরা বানিয়ে এনে সামনে দিতো, তখন চায়ে চুমুক দিয়ে দুধ-চিনি পরিমাণ নিয়ে সে কি অভিযোগ আমার! আম্মা রান্না করে খাবার যখন প্লেটে বেড়ে টেবিলে দিয়ে যেত, তখন ...

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...

জীবন আপনার ফিলোসোফির মতো সুন্দর

আমরা অনেকেই একটা নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে জীবনযাপন করি। স্টুডেন্ট হলে ভার্সিটি-টিউশন-কোকারিকুলার, চাকুরীজীবী হলে নাইন-টু-ফাইভ জব, বাজার করা, পরিবার মেইনটেইন করা,আরো নানান কাজেকর্মে দিন পার হয়ে যাই। এই যান্ত্রিক জীবন নিয়ে আমাদের নানান অভিযোগ তৈরি হয়। একটা সময় এসে, এই ক্লান্ত শরীর আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তখন আর কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতে মনে চায় না, মনে চায় না অপ্রয়োজনে নিজের শক্তি অপচয় করতে! অনেক ফোন কল আর রিসিভ করা হয়ে ওঠে না, অনেক ম্যাসেজের আর জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়তো সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যতাবোধের খাতিরে হাসিমুখে দু'চারটা কথা বলতে হয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও!  দিনের পর দিন যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ যায় কখন উইকেন্ড আসবে এই ভেবে। ট্যুর প্ল্যানও দূরে কোথাও করা যায় না সময়ের অভাব বলে। শেষ কবে ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো তা মনে পড়ে না আর! এভাবেই একটা সময় এসে এই জীবনের সকল ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ জমা হয়, অভিমানে এই জীবন নিয়ে দু'চারটা গাল-মন্দও করে বসি। অবসর জীবনই প্রকৃত জীবন, ছুটি সুন্দর, এসব ধারণা মনে বাসা বাঁধে।  অথচ অবসর সময়ও সবসময় সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে এই যান্ত্রিক জীবন...

Monologue-26

বিকেল ৪:১৩। জ্যামে রিকশায় বসে বসে ঘামছি আর মেজাজ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ১৯-২০ বছরের একটা ছেলে একদম মাঝ রাস্তায় মোটরসাইকেলে কিক মারছে বার-বার তারপরও গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট নিচ্ছে না। এইদিকে পেছন থেকে সব গাড়ি তাকে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে, এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সে  এমনভাবে মনোযোগ দিয়ে একটু পর পর তেলের পাইপ চেক করছে যেন দুনিয়ায় সে আর তার মোটবাইক বাদে আর কিছুই নেই! পেছনে উঁকি দিয়ে দেখি বিশাল লম্বা জ্যাম লেগে গেছে ইতিমধ্যে।  ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম কাস্টমাইজড বাইক। ওল্ড মডেলকে নতুন বডি দিয়ে যেন সাজিয়েছে। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে অবশ্য এসব শখ অদ্ভুত কিছু না। সেদিন এক স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, "পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কি করো?" সে উত্তর দিলো, "COD(Call of Duty) খেলি স্যার"। বেশ সুন্দর উত্তর!  আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "পড়াশোনা যে ঠিকঠাক মতো করছো না আঙ্কেল আন্টি তো ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন ভালো লাগবে স্বামী বাড়িতে গিয়ে সকাল সন্ধ্যা রুটি বানাবা আর চা? " প্রতিত্তোরে সে বললো,"স্যার বিয়ে দিয়ে দিলে তো ভালোই ছিলো। হাসবেন্ড আমাকে প্রতিদিন সকাল...

সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলো

আমার সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলোকে খুব ভালো লাগে। এদের মাঝে ব্যক্তিত্ব বলতে একটা ব্যাপার ফুঁটে থাকে। এদের সবসময় দরকার হয় না সামনে থেকে চেনার, কথা বলে পরিচিত হওয়ার। এদের দূর থেকেও এমনিতেই চেনা যায়, কার্যকলাপেও বুঝা যায়। দরকারের বাইরে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই, শো-অফের এর নামে এটেনশান সিক করতে চায় না, প্রয়োজনের সময় এক্সট্রোভার্ট এবং অপ্রয়োজনে একদম চুপচাপ। এর মানে এই না যে, আমি অন্যদের অপছন্দ করি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যারা অতিরিক্ত মজা করে, Flirt করার নামে ভাঁড়ামি করে, সিরিয়াস সিচুয়েশনে জোকস ক্র্যাক করতে আসে, তাদের আমি একদমই অপছন্দ করি। একটা গামছা ৮ বছরে কিভাবে টিকে এসব নিয়ে ট্রল করে। ফেলানী-স্বর্ণা দাস বর্ডারে গুলি খেয়ে মরে এসব নিয়ে এরা কিছু বলে না, জাতীয় সংগীত পাল্টিয়ে পাগলু হবে না লুঙ্গি ড্যান্স তা নিয়ে পরে আছে! মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে এদের বলি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে মতামত দিলে সেটা জোকস হবে আর কোথায় সেটা ভাঁড়ামি হবে!  ইদানীং স্যোসাইল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, সব জায়গায় অনেকেই নিজেকে Funny সাজাতে গিয়ে জোকার সাজিয়ে ফেলছে, মজা করার নামে ভাঁড়ামি করতেছে! আপনাদের শেয়ার...