পোস্টগুলি

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...

জীবন আপনার ফিলোসোফির মতো সুন্দর

আমরা অনেকেই একটা নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে জীবনযাপন করি। স্টুডেন্ট হলে ভার্সিটি-টিউশন-কোকারিকুলার, চাকুরীজীবী হলে নাইন-টু-ফাইভ জব, বাজার করা, পরিবার মেইনটেইন করা,আরো নানান কাজেকর্মে দিন পার হয়ে যাই। এই যান্ত্রিক জীবন নিয়ে আমাদের নানান অভিযোগ তৈরি হয়। একটা সময় এসে, এই ক্লান্ত শরীর আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তখন আর কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতে মনে চায় না, মনে চায় না অপ্রয়োজনে নিজের শক্তি অপচয় করতে! অনেক ফোন কল আর রিসিভ করা হয়ে ওঠে না, অনেক ম্যাসেজের আর জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়তো সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যতাবোধের খাতিরে হাসিমুখে দু'চারটা কথা বলতে হয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও!  দিনের পর দিন যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ যায় কখন উইকেন্ড আসবে এই ভেবে। ট্যুর প্ল্যানও দূরে কোথাও করা যায় না সময়ের অভাব বলে। শেষ কবে ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো তা মনে পড়ে না আর! এভাবেই একটা সময় এসে এই জীবনের সকল ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ জমা হয়, অভিমানে এই জীবন নিয়ে দু'চারটা গাল-মন্দও করে বসি। অবসর জীবনই প্রকৃত জীবন, ছুটি সুন্দর, এসব ধারণা মনে বাসা বাঁধে।  অথচ অবসর সময়ও সবসময় সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে এই যান্ত্রিক জীবন...

Monologue-26

বিকেল ৪:১৩। জ্যামে রিকশায় বসে বসে ঘামছি আর মেজাজ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ১৯-২০ বছরের একটা ছেলে একদম মাঝ রাস্তায় মোটরসাইকেলে কিক মারছে বার-বার তারপরও গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট নিচ্ছে না। এইদিকে পেছন থেকে সব গাড়ি তাকে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে, এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সে  এমনভাবে মনোযোগ দিয়ে একটু পর পর তেলের পাইপ চেক করছে যেন দুনিয়ায় সে আর তার মোটবাইক বাদে আর কিছুই নেই! পেছনে উঁকি দিয়ে দেখি বিশাল লম্বা জ্যাম লেগে গেছে ইতিমধ্যে।  ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম কাস্টমাইজড বাইক। ওল্ড মডেলকে নতুন বডি দিয়ে যেন সাজিয়েছে। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে অবশ্য এসব শখ অদ্ভুত কিছু না। সেদিন এক স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, "পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কি করো?" সে উত্তর দিলো, "COD(Call of Duty) খেলি স্যার"। বেশ সুন্দর উত্তর!  আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "পড়াশোনা যে ঠিকঠাক মতো করছো না আঙ্কেল আন্টি তো ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন ভালো লাগবে স্বামী বাড়িতে গিয়ে সকাল সন্ধ্যা রুটি বানাবা আর চা? " প্রতিত্তোরে সে বললো,"স্যার বিয়ে দিয়ে দিলে তো ভালোই ছিলো। হাসবেন্ড আমাকে প্রতিদিন সকাল...

সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলো

আমার সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলোকে খুব ভালো লাগে। এদের মাঝে ব্যক্তিত্ব বলতে একটা ব্যাপার ফুঁটে থাকে। এদের সবসময় দরকার হয় না সামনে থেকে চেনার, কথা বলে পরিচিত হওয়ার। এদের দূর থেকেও এমনিতেই চেনা যায়, কার্যকলাপেও বুঝা যায়। দরকারের বাইরে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই, শো-অফের এর নামে এটেনশান সিক করতে চায় না, প্রয়োজনের সময় এক্সট্রোভার্ট এবং অপ্রয়োজনে একদম চুপচাপ। এর মানে এই না যে, আমি অন্যদের অপছন্দ করি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যারা অতিরিক্ত মজা করে, Flirt করার নামে ভাঁড়ামি করে, সিরিয়াস সিচুয়েশনে জোকস ক্র্যাক করতে আসে, তাদের আমি একদমই অপছন্দ করি। একটা গামছা ৮ বছরে কিভাবে টিকে এসব নিয়ে ট্রল করে। ফেলানী-স্বর্ণা দাস বর্ডারে গুলি খেয়ে মরে এসব নিয়ে এরা কিছু বলে না, জাতীয় সংগীত পাল্টিয়ে পাগলু হবে না লুঙ্গি ড্যান্স তা নিয়ে পরে আছে! মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে এদের বলি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে মতামত দিলে সেটা জোকস হবে আর কোথায় সেটা ভাঁড়ামি হবে!  ইদানীং স্যোসাইল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, সব জায়গায় অনেকেই নিজেকে Funny সাজাতে গিয়ে জোকার সাজিয়ে ফেলছে, মজা করার নামে ভাঁড়ামি করতেছে! আপনাদের শেয়ার...

জীবন যেন একটা স্যুটকেস

একটা সময় পর,জীবন যেন একটা স্যুটকেস এর মতো হয়ে যায়।আজকে এক জায়গায় তো, কালকে আরেক জায়গায়। কখনো এখানে তো, কখনো সেখানে।আবার কোনোদিন অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে ঘরের কর্নারে। স্যোসাইল স্ট্যাবিলিটি আনতে গিয়ে এ যেন, জীবনের স্ট্যাবিলিটির বারোটা বেজে যায়! রাত্রি বেলা ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরও মনে হয়, মাথায় ভেতর শব্দ করে মস্ত বড় একটা ট্রেন চলছে! 

একটা প্রস্টিটিউটরে প্রমোট করা থেকে থামেন ভাই

NSU এর যে মেয়েটার চ্যাট ভাইরাল হলো, প্রথমবার দেখে খুব অবাকই হয়েছিলাম এই ভেবে যে, একেই হয়তো 'পশ প্রস্টিটিউশন' বলে, এভাবেই হয়তো ডিল করে! কিন্তু সবথেকে বেশি অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে এই মেয়েটার চ্যাট রীতিমতো 'Talk of the Town'। বিশেষ করে এই মেয়ের একরাত্রি 25k ব্যাপারটা!  সকাল থেকে দেখছি, অনেকেই এই মেয়ের রেট নিয়ে খুব কথাবার্তা বলতেছে স্যোসাইল মিডিয়াগুলোতে। সব থেকে বাজে যে ব্যাপারতা হলো,মেয়েরাই এই মেয়েকে নিয়ে বেশি ট্রল করতেছে। এদের ক্যাপশন অনেকটা এমন যে, "৬৯ টাকার জিনিস ২৫ হাজার হয় কেমনে?"  "মুদ্রাস্ফীতির ফলে আজ ২৫০ টাকার জিনিস ২৫ হাজার!"  " বছরে ৯১ হাজার 😲"  ....................ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তাভাবনা কোথায় গিয়ে পৌঁছালে মানুষ এভাবে একটা Prostitute কে প্রমোট করতে পারে। এরা ভাবে এসব নিয়ে ট্রল করলে নিজেরা সুশীল। কিন্তু আমি তো এদের মানসিকতার সাথে সুশীল সমাজের বিস্তর ফারাক দেখি! মেয়েটা ইনবক্সে গিয়ে করেছে, যা করেছে। ছেলেটাও কম দোষী না। সেই প্রথম অফার করেছে, এবং মেয়েটা প্রশ্রয় দিয়েছে। অথচ ছেলেটাকে নিয়ে কোথাও কথা হচ্ছে না। উত্তেজনা সঠিক জায়গায় না উঠ...