পোস্টগুলি

প্রিয় সুহাসিনী

প্রিয় সুহাসিনী , তোমার কথা অনেকদিন ধরে কিছুই জানি না। যখনই তোমার কথা মনে পড়ে এক পশলা দমকা হাওয়া এসে মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও তুমি যখন চোখের কল্পনার মাঝে উদয় হও তখন আমার সব ব্যস্ততা এলোমেলো হয়ে যায়। জানি না তুমি কেমন আছো! হয়তো নতুন বন্ধুগুলো,নতুন ক্লাসরূমগুলো তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে! সবাই বলে "দূরত্ব বাড়লে সত্যিকারের ভালোবাসার পরিমাণ বাড়ে", হয়তো আমাদের ভালোবাসাটা ,ভালো লাগাটা ছিল চুম্বকীয় ভালোবাসা তাই তো দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে দেখলে না কেমন তোমার আর আমার মনটাও পরিবর্তন করে দিল! কিন্তু জান? আমার নতুন পরিবেশ ,নতুন বন্ধুবান্ধবগুলো,নতুন ক্লাসরূমগুলো আমাকেও অনেক বদলিয়ে দিয়েছে ঠিকই, তবে তা একমাত্র তাদের কাছেই! আমি যখন আমার আগের পরিবেশে, আগের বন্ধুগুলোর কাছে ফিরে যাই,তখন সেই আমি আবার আগের আমিই হয়ে যায়। তোমার সামনেও ঠিক তাই! শহরের নতুন বন্ধুগুলোর মাঝেও অনেক সময় তোমার ছায়া, তোমার অবয়ব ফিরে পায়,অপলক চেয়ে থাকি তাদের দিকে পরমূহূর্তে আমি আমার ভ্রম বুঝতে পারি। আজ যখন রাতের আকাশের মেঘগুলো ভাবিয়ে তোলে, তখন তোমার ঘোর লাগা স্মৃতিগুলোকেই বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়!  ভালো থেকো তুমি,আর ত...

কমলাকান্ত মহাশয়ের ভাং আর আফিম খাওয়ার মাত্রাটা আজকাল বাড়িয়া গিয়াছে!

পথিমধ্যে এক পথিক আকস্মিক আমাকে থামাইয়া দিয়া কহিল , "খোকা ! এই দিগ দিয়া নাকি যাত্রাপালা হইয়াতেছে ?তুমি কি বলিতে পারিবে কোন দিগে গেলে নাটক মঞ্চস্থ স্বচক্ষে দেখিতে পারিব ?"  যেহেতু আর গোটা দুই মাস পার হইলেই আমি ১৮ই পা রাখিব তাই স্বভাবতই পথিকের মুখে খোকা ডাক শুনিয়া ঈষৎ চটিয়া গিয়াছিলাম । তাই যেইটুকু না বয়সের কন্ঠ তাহার চাহিয়াও আরো গুরুগম্ভীর কন্ঠে পথিককে উদ্দেশ্য করিয়া পারিলাম  ,"ওহে মহাশয় নাটক মঞ্চস্থ কি দেখিবেন?আপনার চারপাশেই তো হরহামেশ নাটক মঞ্চস্থ হইতেছে !আপনাকে নিজেকে ,আমাকে কিংবা চারি পার্শ্বের মনুষ্যগুলোকে দেখিলে কি আপনার অভিনেতা মনে হয় না ?তফাৎ শুধুমাত্র ইহাই যে যাত্রাই কিংবা মঞ্চে বড্ড আয়োজন করিয়া অভিনেতারা নাটক মঞ্চস্থ করিয়া থাকেন আর আমাদিগের চারিপার্শ্বে সাদামাটা লীলাখেলায় অভিনেতা  নহে যোদ্ধারা যুদ্ধের নাটক করিয়া যাইতেছে !অতএব আমাদিগের কি উচিত  নহে যোদ্ধাদের নাটক স্বচক্ষে দেখা ?তাহাদিগকে বেশ বেশ বলিয়া অনুপ্রাণিত করিইয়া সামনে এগিয়া যাইবার পথ দেখাইয়া দেওয়া ?  এইবার পথিক কিছুটা থতমত খাইয়া বুঝিতে পারিলেন তার সম্বোধনের সাথে আমার তফাৎটা ! আমি তাহাকে পিছন ফেলিয়া ...

শখ নিজের জন্যে,একান্তই নিজের জন্যে

আমাকে কেউ গিফট করলে আমি গিফটের র‍্যাপিংটা খুব যত্ন সহকারে সময় নিয়ে খুলি।ভেতরে কি আছে এই কৌতুহল দমিয়ে রাখি।যে মানুষটা এতো ভালোবেসে উপহারটা দিয়েছে তার জন্য থাকুক না কিছুটা সময় কৌতূহলে!   কিছুদিন আগে এক বড়ভাই এক বিশেষ কারণে খুব সুন্দর একটা র‍্যাপিং এ মোড়ানো প্যাকেট হাতে দিলো।প্যাকেটটা হাতে নিয়েই বুঝতে পেরেছিলাম ভেতরে বই বা ডাইরি জাতীয় কিছু একটা।ভাইয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম টিউশনে দেরি হচ্ছে বলে। ইতিমধ্যে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো,আবার হাতে ধরে রাখা র‍্যাপিং পেপারে মোড়ানো প্যাকেটটা খোলারও কৌতুহল সামলাতে পারছিলাম না।এ দিকে আমার আবার আনর‍্যাপিং ধীরে স্থিরে না করলে কেমন যেন অসম্পূর্ণ,কৃতঘ্ন লাগে নিজেকে! তাই হাঁটতে হাঁটতেই ধীরে ধীরে র‍্যাপিং পেপারের কস্টেপ খুলতে লাগলাম।প্রতিটা ভাঁজের কস্টেপ খুলতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো এই বুঝি ছিঁড়ে যাবে পেপারটা। আমি জানি একটু পর র‍্যাপিং পেপারটাকে ফেলে দিবো তারপরও এতো যত্ন নিয়ে খোলা! হাহ হাহ, শখ আর পাগলামোর কাছে 'যুক্তি' শব্দ টাই অযৌক্তিক। পাশে হাঁটা বন্ধু আমার ফিলোসোফি কপচানো শুনছে আর হাসছে !!!  খুব ছোট ছোট জিনিসে আমাদের খুব...

আব্বা আমার কাছে লুকায় তার একা থাকার যন্ত্রণা আর আমি লুকায় আমার অনুশোচনাবোধ!

ছোটবেলায় এমন একটা সময় ছিল যখন একটা রুমে দুই ভাই এক বোন থাকতাম,পাশের রুমে আব্বা-আম্মা প্রাইভেসি,বেডরুম এসব শব্দের সাথে তখনও খুব পরিচিত ছিলাম না। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি এভাবেই।  যতোই বাইরের পরিবেশের সাথে পরিচিত হতে থাকি, ততোই নিজের একটা বেডরুম,পরিপাটি একটা পড়ার টেবিলের ইচ্ছে জাগতে শুরু করে!কিন্তু তা আর সম্ভব হয়ে উঠে নি! তখন খুব রাগ হতো বাবা-মা এর উপর,নিজের ভাইবোনের উপর, এই ছোট্ট ঘরটার উপর!ছোট্ট ওই ঘরটাকে এতো অভিশাপ দিয়েছি যে, ঝড় আসলে মনে হতো এই বুঝি ভেঙে পড়বে।  এভাবে আমি অনেকটাই বড় হয়ে গিয়েছিলাম।যেদিন পড়াশোনার স্বার্থে বাসার বাইরে চলে গিয়েছিলাম, সেদিন যেন আমার সবথেকে সুখের দিন ছিল।একদম এই গিঞ্জি ঘর থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচা যাকে বলে!  তবে উপরওয়ালা ঠিকই একদিন অভিশাপ কবুল করে নিলো! যেইদিন ওই ছোট্ট ঘর ছেড়ে নতুন ঘরে পা রাখলাম কেমন যেন একটা তীব্র যান্তিক স্বার্থপরতা কাজ করছিলো মনে! গত ১০ বছরের স্মৃতি যেই ঘরে, সেই ঘরে আর থাকা হবে না! কত ঝড় বৃষ্টি আর তপ্ত দুপুর কাটানো একটা স্বয়ং সম্পূর্ণ পরিবারের আর থাকা হবে না ওই ঘরে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এসব ভেবে! নতুন ঘরে উঠলাম ঠিকই, তবে অসম্পূর্ণ...

13,The Unlucky Thirteen!

ছবি
কফির মগে শেষ চুমুকটা দিতে দিতে ১৩তম রিজেকশনটা করলো অভি। 13,the unlucky thirteen! ভালো ভালো বন্ধুত্বগুলো হঠাৎ করে সম্পর্কে বদলে যেতে চাই কেন? এটাই তার কাছে রহস্য মনে হয়! একে একে শুরু করে প্রতিটা মেয়ের সাথেই তার ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। কারো সাথে কমন-আত্মীয়ের ফাংশনে দেখা তো কারো সাথে স্যোসাইল মিডিয়াতে পরিচয়।  ঐশী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ওর জীবনে অনেক মেয়ে এসেছে। সে জানে, ঐশীর অবস্থান আর কাউকে দিতে পারবে না সে। এশী-ই ছিল ওর জীবনে প্রথম প্রেম। লং ডিস্ট্যান্স রিলেশন ছিল ওদের। ঐশীর সাথে প্রতিবার দেখা করার আগে তার একটাই রিকুয়েষ্ট থাকতো, চোখে গাঢ় কাজল দিয়ে যাতে আসে। সেই কাজলকালো চোখে চোখ রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিতো অভি। তার হাতে হাত রেখে কতোবার যে রাস্তা পার করতে হয়েছে অভির। দেখা করে ফিরার সময় ভীষণ মন খারাপ নিয়ে ফিরতো সে।এই শহরটায় ঐশীকে একা রেখে আসছে বলে দুশ্চিন্তা হতো তার।কিন্তু ঐশীকে তা বুঝতে দিতো না সে, বিদায় দেওয়ার সময় একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে হাসিমুখে উল্টোপথে রওয়ানা দিতো অভি। এতোকিছুর পরও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দীর্ঘ তিনবছরের সম্পর্কটার একটা তুচ্ছ বিষয়ে ইতি টেনে ঐশী অভিকে ছেড়ে চলে গেল। অভি এরপ...

বয়স ও আমরা !

বয়সের সাথে সাথে আমাদের অনেক কিছুর সংজ্ঞাই পরিবর্তন হতে শুরু করে।  আগে রমজান মাস মানেই ছিল নামাজ আর রোযার দোহাই দিয়ে পড়াশোনায় আরেকটু বেশি ফাঁকি মারা। আর এখন রমজান মাস আসলে ক্লাস, টিউশন,ফ্যামিলি সবকিছুর চাপ যেন আরো বেড়ে যাই!   একটা সময় ছিল যখন বাদ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টার কথা চিন্তা করলেই মাথায় খেলাধুলা ঘুরতো। আর এখন আমাদের কাছে এই সময়টার সংজ্ঞা হলো দিনের পুরো কর্মব্যস্ততা শেষ করে ক্লান্তিবোধ গুছানো!   ছোটবেলায় ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষার পর, যেই পনেরোটা দিন ছুটি দিতো তাও পড়ার টেবিলে বসে থাকা লাগতো পুরোনো বই খাতাগুলো নিয়ে। বৃত্তি পরীক্ষার এক্সট্রা প্রিপারেশন নিতে হবে বলে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সময়টায় এসে পরীক্ষার আগেরদিন রাতে কোনো রকম পড়ে পাশ ঠেকাতে পারলে হল থেকে বিজয়ীর হাসি নিয়ে বের হই! পড়াশোনার সংজ্ঞাটাও যেন হুট করে পাল্টে গেল।  একটা সময় ছিল, বাড়ি-গাড়ি এসব উচ্চ বিলাসী চিন্তাভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকতাম। সবকিছুতেই বেস্ট আর ক্লাসিক রুচিবোধ এতোটাই প্রবল ছিল তখন, হাম্বল লাইফ লিড করেও ভবিষ্যতে যে কখনো সাধারণ জীবনযাপন করব, চিন্তাও করি নি! এখন ওসব উচ্চ বিলাস...