বয়স ও আমরা !
বয়সের সাথে সাথে আমাদের অনেক কিছুর সংজ্ঞাই পরিবর্তন হতে শুরু করে।
আগে রমজান মাস মানেই ছিল নামাজ আর রোযার দোহাই দিয়ে পড়াশোনায় আরেকটু বেশি ফাঁকি মারা। আর এখন রমজান মাস আসলে ক্লাস, টিউশন,ফ্যামিলি সবকিছুর চাপ যেন আরো বেড়ে যাই!
একটা সময় ছিল যখন বাদ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টার কথা চিন্তা করলেই মাথায় খেলাধুলা ঘুরতো। আর এখন আমাদের কাছে এই সময়টার সংজ্ঞা হলো দিনের পুরো কর্মব্যস্ততা শেষ করে ক্লান্তিবোধ গুছানো!
ছোটবেলায় ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষার পর, যেই পনেরোটা দিন ছুটি দিতো তাও পড়ার টেবিলে বসে থাকা লাগতো পুরোনো বই খাতাগুলো নিয়ে। বৃত্তি পরীক্ষার এক্সট্রা প্রিপারেশন নিতে হবে বলে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সময়টায় এসে পরীক্ষার আগেরদিন রাতে কোনো রকম পড়ে পাশ ঠেকাতে পারলে হল থেকে বিজয়ীর হাসি নিয়ে বের হই! পড়াশোনার সংজ্ঞাটাও যেন হুট করে পাল্টে গেল।
একটা সময় ছিল, বাড়ি-গাড়ি এসব উচ্চ বিলাসী চিন্তাভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকতাম। সবকিছুতেই বেস্ট আর ক্লাসিক রুচিবোধ এতোটাই প্রবল ছিল তখন, হাম্বল লাইফ লিড করেও ভবিষ্যতে যে কখনো সাধারণ জীবনযাপন করব, চিন্তাও করি নি! এখন ওসব উচ্চ বিলাসী চিন্তাভাবনা করতেই ভয় করে!
একটা সময় ছিল সবকিছুতে পার্ফেক্টনেস চাইতাম। ডিম অমলেট থেকে শুরু করে স্কুলে পাশের বেঞ্চে বসা ছেলেটার ব্যবহারেও। আর তা না হলে খাবার খাওয়াও হতো না, বন্ধুত্ব করাও না। আর এখন পার্ফেক্টনেস এর সংজ্ঞাটাই পাল্টে গিয়েছে বয়সের সাথে সাথে। এতোকিছুর সাথে খাপ খাওয়ানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে গড়তে হচ্ছে নতুনত্ব ঠেকাতে!
জ্যামিতিক হারে বয়স বাড়ছে, আর তার সাথে পাল্টা দিয়ে সূচকীয় হারে বাড়ছে প্রতিকূলতা আর ইন্ট্রোভার্টনেস! চারপাশের মানুষগুলো দ্বারা এতোটাই প্রভাবিত আমরা মাঝে মাঝে ব্যক্তিত্ব ভুলার তিক্ত স্বাদ অনুভব হয়। আত্মসম্মান আর টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে সুস্থ একটা জীবন হারাতে বসছি আমরা।
তাই তো আড্ডায় যখন বসে অতীতের ভাল স্মৃতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় ক্ষণিকের জন্য ফাঁকা হয়ে পরে প্রতিনিয়ত sin cos tan আর গাড়ি কেনার হিসেব মেলানো এই উর্বর যান্ত্রিক মস্তিষ্কটা🙂
মন্তব্যসমূহ