13,The Unlucky Thirteen!

কফির মগে শেষ চুমুকটা দিতে দিতে ১৩তম রিজেকশনটা করলো অভি। 13,the unlucky thirteen! ভালো ভালো বন্ধুত্বগুলো হঠাৎ করে সম্পর্কে বদলে যেতে চাই কেন? এটাই তার কাছে রহস্য মনে হয়!
একে একে শুরু করে প্রতিটা মেয়ের সাথেই তার ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। কারো সাথে কমন-আত্মীয়ের ফাংশনে দেখা তো কারো সাথে স্যোসাইল মিডিয়াতে পরিচয়।
ঐশী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ওর জীবনে অনেক মেয়ে এসেছে। সে জানে, ঐশীর অবস্থান আর কাউকে দিতে পারবে না সে। এশী-ই ছিল ওর জীবনে প্রথম প্রেম। লং ডিস্ট্যান্স রিলেশন ছিল ওদের। ঐশীর সাথে প্রতিবার দেখা করার আগে তার একটাই রিকুয়েষ্ট থাকতো, চোখে গাঢ় কাজল দিয়ে যাতে আসে। সেই কাজলকালো চোখে চোখ রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিতো অভি। তার হাতে হাত রেখে কতোবার যে রাস্তা পার করতে হয়েছে অভির। দেখা করে ফিরার সময় ভীষণ মন খারাপ নিয়ে ফিরতো সে।এই শহরটায় ঐশীকে একা রেখে আসছে বলে দুশ্চিন্তা হতো তার।কিন্তু ঐশীকে তা বুঝতে দিতো না সে, বিদায় দেওয়ার সময় একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে হাসিমুখে উল্টোপথে রওয়ানা দিতো অভি। এতোকিছুর পরও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দীর্ঘ তিনবছরের সম্পর্কটার একটা তুচ্ছ বিষয়ে ইতি টেনে ঐশী অভিকে ছেড়ে চলে গেল। অভি এরপরের একটা বছর একদম পাগলপ্রায় হয়ে কাটিয়েছে। কি জানি এক অদ্ভুত মায়ায় ঐশীর প্রেমে আসক্ত করে রেখেছে এখনও তাকে। সে এখনও বিশ্বাস করে,হুট করে একদিন ঐশী ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করবে কেমন আছে সে! জীবনের প্রথম সবকিছুই তীব্র সুন্দর কিংবা ভয়ংকর কষ্টের। যার কিনা দুটোই সহ্য করেছে অভি!
তারপর পড়াশোনা, নিজের ক্যারিয়ার, বন্ধুবান্ধব সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে। অনেক ক্লাসমেইট, জুনিয়র অনেক মেয়ের সাথে পরিচয়। অভি চাইতো কেউ অন্তত ঐশীর মতো করে ওকে ভালবাসুক, ঐ কাজল দেওয়া চোখে, যে মায়া আর আসক্তি ছিল তা সে অন্য কারো চোখে খুঁজে বেড়াতো। কিন্ত কারো মাঝে সেই পূর্ণতা খুঁজে পেতো না সে। তারপরও সে কন্টিনিউ করার চেষ্টা করেছে অনেকের সাথে! কিন্তু ইতিটা টানতে হয়েছে ওই এক একটা গম্ভীর রিজেকশন লেটারের মাধ্যমে। তার রিজেকশনেও একটা আভিজাত্য কাজ করে !সুন্দর একটা হলুদ খামে ছোট একটা চিরকুটের লিখাগুলো অনেকটা এমন,
"প্রিয়,
এই চিরকুট তোমার হাতে পৌঁছুতে কমপক্ষে তিনদিন! এমনও হতে পারে আমার সাথে চ্যাট করতে করতে ডাকপিয়ন এসে তোমাকে খামটা দিয়ে গিয়েছে।তোমার হয়তো তিনদিন আগের রিজেকশন লেটার হাতে নিয়ে আমার ভাবলেশহীন চ্যাটিং দেখে রাগ উঠবে। এর জন্য আমার হয়তো অনুতপ্ত হওয়া উচিত! কীবোর্ডের ছোঁয়ায়, ভার্চুয়াল পর্দায় না বলাটা হয়তো তোমার কাছে হালকা মনে হতো তাই হাতে লিখে পাঠানো!
ভালো থেকো সুকন্যা! "
অভির অনেক ইচ্ছে করে এই চিঠি পড়ার পর প্রতিটা মেয়ের চেহারায় যে কনফিউশান-রাগ-ঘৃণা ফুটে উঠে, তা দেখতে। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়!
এই চিঠি পড়ার পরও অনেক মেয়ে তাকে ম্যাসেজ করে। কেউ হয়তো বন্ধু হয়েই থেকে যায়।কেউ ওয়ান সাইডেড লাভার হয়ে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি কারো প্রতি তার বিন্দু পরিমাণ ইনফাচুয়েশনও কাজ করে না।
আচ্ছা তাহলে কি সিরিয়াল কিলার মুভিতে দেখা সাইকোলজিক্যাল সিরিয়াল কিলারে পরিণত হচ্ছে সে !!
মন্তব্যসমূহ