পোস্টগুলি

সময় আরেক মরীচিকা

সময়টা কেমন যেন!  • ৯০ মিনিটের টক-টাইম শেষ দিনে এসেও ৭০ মিনিট রয়ে যায়। ৪০০+ কন্টাক্ট লিস্টে থাকার পরও কাজের বাইরে কোনো কথা বলার মানুষ নেই! • সবার মাঝে থেকেও একা অনুভব করাটা এখন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে! • ব্যক্তিগত জীবন চেপে রাখতে রাখতে এমন অবস্থা হয়ে গিয়েছে যে, মানুষের জীবনের গল্প আর প্রভাবিত করতে পারে না এখন!  • সম্পর্কের এতো ভাঙ্গন দেখতে দেখতে এমন দশা হয়েছে যে,সম্পর্কগুলোকে এখন জুয়া খেলা মনে হয়! • যান্ত্রিক জীবনে চাপ এতো বেড়েছে যে, এখন চোখ ঘুম চাই, শরীর বিশ্রাম চাই, মন দূরে কোথাও চলে যেতে মনে চাই!  • ইন্ট্রোভার্ট হতে হতে এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে যে, মোবাইলের রিংটা বেঁজে উঠলে চোখমুখ কুঁচকে যাই। কারো সাথে কথাবলা রীতিমতো আতংক!  • স্যোসাইল মিডিয়া আসক্তি এমনভাবে ব্রেন ওয়াশ করছে যে, পজিটিভ ভেবে নিজের অজান্তে সব নেগেটিভিটি ছড়াচ্ছি!  • সো-কলড বন্ধুত্ব এতোই বেড়েছে যে প্রয়োজনের সময় রীতিমতো হতাশ হতে হয়!  "একদিন হঠাৎ করে সময়টা পার করে ফেলবো। গল্প হয়ে রবে সবকিছু।সাফল্যের শীর্ষে বসে অটোবায়োগ্রাফি লিখবো, যেখানে প্রতিটা শিক্ষা হবে এক একটা অধ্যায়"-এই আশায় এখনো এক...

এলোমেলো ভবঘুরে

ইদানীং ওর আইডিতে ঘন ঘন ঢুঁ মারা হচ্ছে!  আমি সাধারণত খুব বেশি টেনশন কিংবা বিক্ষিপ্ত থাকলে ওর আইডি কিংবা সেই পুরোনো অ্যালবামে ঢুঁকি।  যখন কোনো কিছুর পেছনে ছুঁটেও তা পাই না, যখন হার আমার নিত্যসঙ্গী হতে থাকে,যখন সম্পর্কে মানসিক অবসাদ তৈরি হয়,চারদিকের হতাশা পেয়ে বসে আমাকে, তখন আমি ওর আইডিতে ঢুঁকি!যাকে জীবনের চেয়েও বেশি চেয়েছিলাম,যার কাছে ভালো থাকতে নিরন্তর-নিরলস-যান্ত্রিক পরিশ্রম করছিলাম,যার কাছে আমিই হতে চেয়েছিলাম একজন আদর্শ পুরুষের উৎকৃর্ষ উদাহরণ, আজ তাকেই হারিয়ে ফেলেছি ভাবলেই ভেতরটা কেমন জানি অন্তঃসারশূন্য হয়ে যায়! মনে হয় যেন,জীবনে এর থেকে বেশি কিছু হারানোর আর কি-ই-বা হতে পারে!আমার এই নিকৃষ্ট রাগ,আমাকে এর থেকে আর কতোই বা অদম বানাতে পারে! তাই,আজ আমি নিজের কাছে নিজেই প্রায়শ্চিত্ত করে যাচ্ছি!  বিক্ষিপ্ত বিশাদগ্রস্ত মন নিয়ে যখন ওর লক করা আইডির ডিপির দিকে তাকিয়ে থাকি,মনে মনে ডিপির নিচের দুইলাইনের সেই বায়ো অসীম সময় নিয়ে আওড়াই, তখন মনটা কেমন জানি শান্ত হয়ে যাই, মনে হয় আমি যেন মেডিটেশন স্টেজে চলে গিয়েছি! মাথার চারপাশে সবকিছুর ফাঁকা ফাঁকা মনে হতে থাকে!  যাকে কয়েক মুহূর্ত দেখার ...

তুমি ও বেমানান

 আজ,  বাতাসে তোমার চুলের ঘ্রাণ,  ভেঁজা জানালার কাঁচে তোমার আবছায়া বিদ্যমান।  ভোরের সূর্যোদয়ে তোমার দেওয়া আশারবাণী,  একফালি জ্যোৎস্নায় তোমার সাথে আমার দূরালাপনি।  রাস্তাঘাটের হাহাকারে তোমার অভিমান,  পড়ন্ত বিকেলের হাঁটাপথটায় তোমার স্মৃতি বিদ্যমান।  কথা ছিল, দু'জনে একইসাথে পূর্ণিমাসিক্ত হবো,  দু'জনের বোনা স্বপ্নগুলো, স্বপ্ন দিয়েই সাজাবো।  ক্লান্ত শরীরে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ঝড় তুলবো  রাজপুত্র হলে তুমি, আর রাজকন্যা হলে নামটা আমিই রাখবো!  অবশেষে কথা হলো আমি থাকবো ভালো তোমায় ছেড়ে,  আর তুমি এতে বিশ্বাসী হলে আমিও গেলাম হারিয়ে!

My Thoughts

সে জানে না,টেনশনগুলোর মাঝেই প্রকৃত ভালবাসাটা লুকানো।সে ভালবাসাই শুধু একটাই চাহিদা আর তা হলো যেখানেই থাকো ভালো থেকো, সাবধানে থেকো, সাবধানে বাসায় ফিরো।

ভাবনা

আকাশ থেকে যখন বৃষ্টি পড়ে,তখন কতই না পরিষ্কার লাগে। কিন্তু যখন তা মাটিতে পড়ে কাঁদায় পরিনত হয়, তখন ঘৃণা হয়-ঠিক তেমনি আমাদের এই জীবনটা । যখন আমরা শিশু হয়ে জন্মায় তখন কতই না আগলে আদর করে বরণ করে সমাজ । আর যখন সমাজের অবাধ্য সন্তানে পরিনত হয় ,তখন পরিনত হয় সমাজের ঘৃণীত কাঁদার মত।

The Age !!!

এমন একটা বয়সে এসে আটকে গেছি, যে বয়স সবকিছু পার্ফেক্ট চাই! সে পার্ফেক্ট বাড়ি চাই, নারী চাই, গাড়ি চাই! কিন্তু নিজে পার্ফেক্ট হওয়ার জন্য যা দরকার তা কিছুই করতে চাই না!  কি অদ্ভুত না?! আগে একটা সময় ছিল কাউকে ভালো লাগার জন্য একটা কারণ খুঁজে পেলেই যথেষ্ট ছিল। আর এখন কারো শত ভালোকিছুর মাঝে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য একটা কারণই চলে! বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছোটবেলায় পার্ফেক্টনেস বলতে বুঝতাম, ক্রিকেট খেলায় ওপেনিং এ নামতে পারা,দলকে লিড করতে পারা।আর এখন পার্ফেক্টনেস এর মানে বুঝি খেলায় হারটাকে কতোটা স্মার্টলি হ্যান্ডেল করতে পেরেছি তা!  ছোটবেলায় পার্ফেক্ট রেজাল্ট করা মানে বুঝতাম পরীক্ষায় ফাস্ট হওয়া অথবা ৯৯-১০০ এর বাঁধনে মার্কসকে আটকে রাখা। আর এখন পার্ফেক্ট রেজাল্ট এর কথা শুনলেই কেন জানি মনে হয়, কতগুলো শীট চাটাচাটি করা, বোরিং লেকচারের ঘুমন্ত মস্তিষ্কটাকে জাগিয়ে রাখা, আর দিনশেষে হলে গিয়ে বমি করে সবকিছু খাতায় উগলে দেওয়া! দূর হতে যে দম্পতিকে দেখলে মনে হয় পার্ফেক্ট কাপল, আমার লেখকের চোখ সেখানে ঠিকই ইমপার্ফেক্টনেস খুঁজে পাই।