শখ নিজের জন্যে,একান্তই নিজের জন্যে
আমাকে কেউ গিফট করলে আমি গিফটের র্যাপিংটা খুব যত্ন সহকারে সময় নিয়ে খুলি।ভেতরে কি আছে এই কৌতুহল দমিয়ে রাখি।যে মানুষটা এতো ভালোবেসে উপহারটা দিয়েছে তার জন্য থাকুক না কিছুটা সময় কৌতূহলে!
কিছুদিন আগে এক বড়ভাই এক বিশেষ কারণে খুব সুন্দর একটা র্যাপিং এ মোড়ানো প্যাকেট হাতে দিলো।প্যাকেটটা হাতে নিয়েই বুঝতে পেরেছিলাম ভেতরে বই বা ডাইরি জাতীয় কিছু একটা।ভাইয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম টিউশনে দেরি হচ্ছে বলে। ইতিমধ্যে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো,আবার হাতে ধরে রাখা র্যাপিং পেপারে মোড়ানো প্যাকেটটা খোলারও কৌতুহল সামলাতে পারছিলাম না।এ দিকে আমার আবার আনর্যাপিং ধীরে স্থিরে না করলে কেমন যেন অসম্পূর্ণ,কৃতঘ্ন লাগে নিজেকে! তাই হাঁটতে হাঁটতেই ধীরে ধীরে র্যাপিং পেপারের কস্টেপ খুলতে লাগলাম।প্রতিটা ভাঁজের কস্টেপ খুলতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো এই বুঝি ছিঁড়ে যাবে পেপারটা। আমি জানি একটু পর র্যাপিং পেপারটাকে ফেলে দিবো তারপরও এতো যত্ন নিয়ে খোলা! হাহ হাহ, শখ আর পাগলামোর কাছে 'যুক্তি' শব্দ টাই অযৌক্তিক। পাশে হাঁটা বন্ধু আমার ফিলোসোফি কপচানো শুনছে আর হাসছে !!!
খুব ছোট ছোট জিনিসে আমাদের খুব শখ থাকে একটা সময়।এই শখ এর সাথে কাজ করে বিলাসিতা।আর এই দুইয়ের মিশ্রনে শূন্য পকেট হোক কিংবা ভগ্ন হৃদয়, নিজেকে অনেক সুখী অনুভব হয়। ছোটবেলায় পেপার কাটিং জমাতাম খুব আগ্রহ নিয়ে। যদিও এর এক শতাংশও পড়া হতো না, কিন্তু তারপরও খুব আগ্রহ সহকারে ডাইরিতে কাটিংগুলো আঠা দিয়ে লাগাতাম।নিজেকে সবার থেকে আলাদা একজন সুখী,জ্ঞানী মানুষ ভাবতাম!
বড় হওয়ার সাথে সাথে ছোট ছোট জিনিসগুলোর প্রতি আমাদের আগ্রহ কমতে থাকে।স্টক মার্কেট,রাজনীতি, অর্থনীতি আর পত্রিকার গুরুগম্ভীর কলামের পাতায় মনোনিবেশ করতে করতে কখন যেন ছোট ছোট শখগুলো মরে যাই, টেরই পাই না আমরা।অর্থ একদিন এসে শূন্য পকেট পূর্ণ করে দেয়,ভগ্ন হৃদয়ে জায়গা করে নেয় অন্য কেউ,ঠাঁই পাই বিলাসিতা।কিন্তু একটা অসুখী ভাব, আফসোস, হতাশা থেকেই যায়।
কারণ শখ আর বিলাসিতা তো এক না।শখ নিজের জন্যে,একান্তই নিজের জন্যে। আর বিলাসিতা সে তো লোক দেখানো চাহিদা মাত্র!
মন্তব্যসমূহ