আমার পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জীবন উপভোগ্যকর ছিল বটে

এই শহরে ঝুম বৃষ্টি নামে, রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় । সারাদিন চার দেয়ালের এই  রুমে বন্দী থেকে বারান্দার গ্রীল কিংবা জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখে কাঁটিয়ে দিতে হয়। সেই বৃষ্টি, কাঁদামাটি ছোঁয়া আর হয় না। হ্যা, এই শহরেও বৃষ্টিবিলাস করে মানুষ। কিন্তু পার্কের ব্যাঞ্চ আর পায়ের নিচের শক্ত ইটপাথরের রাস্তা গ্রামের ব্রীজ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে কিংবা স্কুল পালিয়ে নরম কোমল ঘাসের উপর পা মাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজার যেই আনন্দ, তা কখনো  দিতে পারে না। 

এই শহরে যখন-তখন হুট করে নামা অপ্রস্তুত বৃষ্টির মতো হুট করে প্রেম এসে সিক্ত করে দেয় অনেককে। একটা ছাতা দুটো মানুষকে সবার থেকে আড়াল করে কতোটা কাছাকাছি এনে দেয়, তাই না? প্রেম আর অপ্রেম এর মাঝে যেই বিশাল তফাৎ , সেই সমপরিমাণ তফাৎ আমি দেখতে পাই আমার সাথে এই শহরের! এই শহরের কফি শপগুলোয় আমার মতো দু'একজন হতাভাগা প্রেমিক মন খারাপ করে বসে থাকে একা। কখনো ধরা হয়নি হাত, ছোঁয়া হয়নি বৃষ্টি, লিখা হয়নি কবিতা, দেয়া হয়নি একসাথে চায়ে চুমুক। এই এক বৃষ্টি যেন হঠাৎ করে জীবনে নামিয়ে আনে বিশাল এক শূন্যতা! 

এই শহরের যান্ত্রিক বৃষ্টি, মানুষের যন্ত্রের মতো এই জীবনকে একটুও যেন বিঘ্ন ঘটাতে পারে না। বাসে জানালার পাশের সিটটায় বসে বাইরে হাত বাড়িয়ে দিয়ে যান্ত্রিক এই বৃষ্টির স্পর্শ নিই আর মানুষের ছুটে চলা দেখি। এই হাঁটু সমান পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এসব দেখি আর মনে মনে বলি," আমার পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জীবন উপভোগ্যকর ছিল বটে "!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest