আবেগ শূন্য
আবেগ শূন্য হয়ে যাওয়া ব্যাপারটা অনেক ভয়ংকর, তীব্র অসহ্যের!
টান টান এক ম্যাচ জিতে হুররে বলে চিৎকার দেওয়া উচিত,কিন্তু ভেতর থেকে কেমন যেনো কোনো উত্তেজনা অনুভব করি না আর এখন ! পরীক্ষার শেষ মিনিটে এসে দেখি লেখার আরো অনেক বাকি। উত্তরপত্র জমা দিয়ে বিরস মুখে বের হয়ে শত চেষ্টা করেও নিজেকে আফসোসের উপলব্ধি করাতে পারি না। বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে গিয়ে আনন্দে নেচে-গেয়ে মেতে উঠার কথা, অথচ এখন কেমন যেন বরফের মতো জমে যাই। একটা সময় পোয়েট্রি লিখতাম সবাইকে পড়ে শোনানোর জন্য , এখন মাঝ রাতে পূর্ণিমার আলোয় লুকিয়ে লুকিয়ে লিখতে বসি, যাতে কেউ না দেখতে পায় সে লিখা।
বিশ্বাস করেন, আবেগ তাড়িত হওয়ার চেয়ে আবেগ শূন্য হয়ে পড়ার মতো বিরক্তের আর অসহ্যের কিছু নেই। এই স্টেজে মানুষের সামনে আবেগ প্রকাশ করতে মনে চাই না, নিজেকে তুলে ধরতে বিরক্ত লাগে। রুমের দরজা লাগিয়ে হাই হোপসের সোলো তে ডুবে যাওয়া এ মন পূর্ণিমাবিলাসকে একঘেয়েমির মনে করে। অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের অনেক কিছু পাল্টে দেয়। আবেগের সীমানায় বিশাল এক প্রাচীর টেনে দেয় যেন!
হয়তো সে সময়টা আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, যেই সময়টায় ঝিঁঝিপোকার আলোর পেছনে ছুটতাম। হারিকেনের আলোয় ঝিমিয়ে পড়া দুচোখ, ঘুমিয়ে পড়ার মাঝে সুখ খুঁজে পেতো। বাস্তবতার সাথে পরিচয় না হওয়া অনভিজ্ঞ সে জীবন জুড়ে পুরোটুকুই ছিল আবেগ আর অল্পতেই সুখ। এখন সুখের সংজ্ঞার সাথে সাথে এর মূল্যও অনেক বেড়ে গেছে। এই ব্যয়ভার বহন করে সুখী হওয়ার মতো যোগ্যতা আর আমাদের হয়ে উঠে না!
মন্তব্যসমূহ