প্যারেন্টিং কালচার, আ স্কুল অব থটস
এখনকার যুগের উচ্চ শিক্ষিত অতি সচেতন মা-বাবার বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য আমার মায়া হয়। আমাদের সময়কার এইট পাশ, এসএসসি পাশ মা-বাবারা, এখনকার উচ্চ শিক্ষিত মা-বাবাদের চেয়ে শতগুণে ভালো ছিলো। ছোটবেলায় পড়ার সময় পড়তে বসাতো ,খেলার সময় বেঁধে দিতো, মেলায় নিয়ে যেতো সর্বোপরি একটা স্বাধীনতা দিয়েছে আমাদের। অন্তত, একটা সুস্থ আর সুন্দর পরিবেশে বড় হতে দিয়েছে আমাদের। সবকিছুর অভিজ্ঞতা আর স্পর্শ নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে।
এখনকার মা-বাবা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তার সন্তানদের। ব্যাগে বইয়ের স্তূপের ভার যে এই দিকে মস্তিষ্কের ভার কমিয়ে দিচ্ছে, এই খেয়াল তাদের নেই একদমই। তারা ভাবে Complan আর Born Vita খেলেই ব্রেইন ভালো হয়, লম্বা হয় । তারা এটা মানতে নারাজ যে, তাদের বড় হওয়ার জন্য বাস্তবতা শিখার জন্য বাইরের মানুষদের সাথে মিশতে দিতে হয়, উন্মুক্ত মাঠের খোলা বাতাসের দরকার ব্রেইনের । তাদের যত উদ্বেগ অমুকের ছেলে ফাস্ট হয়েছে , তমুকের মেয়ের লিখা সুন্দর আর তোর হাতের লিখা এমন কেন? তুই কেন ফাস্ট হতে পারিস না?
বিকেলটা খেলার সময়।আমাদের সময়ে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ছিলো খেলার জন্য অনুমোদিত সময়।শত চেষ্টা করেও এই সময় টেবিলে বসিয়ে রাখা যেত না আমাদের।এই সময়টায় আমরা ভুলেই যেতাম পড়ালেখার কথা, বাসায় ফিরার কথা, এই সময়টায় মাঠে বলের পেছনে ছুটতাম, দৌড়াতাম, সাইকেল নিয়ে ঘুরতাম আর মনে মনে উড়তাম সবুজ ধানক্ষেত আর নীলে।আর এখনকার মা-বাবাদের দেখি, সন্তানেরা সকালে স্কুল, দুপুরে কোচিং সেরে বিকেলে অবসর থাকলে খেলাধুলা করে বলে বাসায় হোম টিউটর রাখে।বেচারা হোম টিউটর আর হতভাগা স্টুডেন্ট !!!
মাঝে মাঝে ভাবি, এই বাচ্চাগুলো যখন বড় হবে তখন এরা কি আমাদের মতো নস্টালজিক হয়ে পড়বে ফেলে আসা শৈশব এর স্মৃতিচারণ করে? এদের শৈশব নিয়ে নস্টালজিক হওয়ার মতো কিছু কী আদৌ আছে ? কই আমি তো এদের শৈশব একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর কাঁধে ব্যাগের বোঝা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না। এই বাচ্চাগুলো একটা সময় এসে হয়তো অনেক ভালো ভালো ভার্সিটি তে চান্স পাবে, কেউ কেউ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়বে। তারা একটা সময় গিয়ে উপলব্ধি করবে, এতো প্রতিযোগিতা করে এখানে আসতে গিয়ে পেছনে একটা সুন্দর শৈশব-কৈশোর হারিয়ে ফেলেছে। পাশে বসা সহপাঠী কিংবা সিনিয়র কারো বাল্যকালের গল্প শুনতে শুনতে যখন লাঞ্চ করবে, তখন উপলব্ধি করবে এদের বলার মতো কিছুই নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে, আমাদের সমাজে একটা সুস্থ প্যারেন্টিং কালচার দরকার।একটা ভালো ইন্সটিটিউশন দরকার, যারা প্যারেন্টিং নিয়ে কাজ করবে।কিছু ভালো ভালো বই লিখা দরকার, যেখানে প্যারেন্টিং নিয়ে ধারণা দিবে মা-বাবাদের।
মন্তব্যসমূহ