এক বিকেল ও এক পিচ্চি
ট্রেনে আমার সামনে এক পিচ্চি বসে আছে। বয়স পাঁচ-ছয় হবে, গোলগাল কিউট একটা চেহারা। একটু পর পর ব্যাগ থেকে বের করে বাসা থেকে বানিয়ে আনা খাবার খাওয়াচ্ছে পিচ্চির মা। পিচ্চি খেতে না চাইলে পাশে থাকা বাবা জোর করছে খেতে এই বলে যে, " না খেলে ব্রেন ভালো হবে কি করে?"
বুঝলাম, পিচ্চি বাবা-মা দু'জনের খুব আদরের। আমার তোষামোদে মনে খুব ইন্টারেস্ট কাজ করছে। মন বলছে আঙ্কেল আন্টিকে জিজ্ঞেস করতে,
"তো আঙ্কেল আন্টি বড় হলে ওকে কি বানাবেন?"
আমি প্রশ্নটা করলাম একটু ভিন্নভাবে,
"খুব শান্তশিষ্ট বাচ্চা আপনার। পিচ্চির নাম কি আন্টি?"
"ওর নাম মাইশা"
আমি একগাল হাসি নিয়ে আন্টিকে এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন করলাম,
"ডাক্তার বানানোর ইচ্ছে নাকি আঙ্কেলের?"
আঙ্কেল এবার আমার দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকালো, আন্টি অবাক হয়ে আমার দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে প্রশ্ন করে,
"আশ্চর্য, তুমি বুঝলে কিভাবে! তোমার আঙ্কেলের খুব ইচ্ছে মেয়েকে ডাক্তার বানাবে, আসলে আমিও চাই ও ডাক্তার হোক।"
আমি হাসি হাসি মুখ নিয়ে উনাদের বললাম,
"আচ্ছা আচ্ছা খুব ভালো তোহ"। আর ভেতর ভেতর বলতেছি,
"আগে তো দুনিয়া দেখতে দিন তারপর না হয় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার "৷
পিচ্চি জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে আর আমি পিচ্চিটাকে দেখছি। বেচারা ডা. মাইশা!
আপনারাও অবাক হচ্ছেন নাম শুনে কিভাবে আন্দাজ করলাম? এটা বাংলাদেশ ভাই!
মন্তব্যসমূহ