My 2019!!
আমার জীবনে এই বছরটা তুলনামুলকভাবে অনেক ভাল কেটেছে । হারানো থেকে
পাওয়ার পাল্লাটা ছিল সবথেকে ভারী ।
১৯’এ কলেজ জীবনে যা যা পেলাম :
১। প্রথম আলো ম্যাথ অলিম্পিয়াড আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রথম ।
২।রাত জেগে তাঁরাদের ছিটকে পড়া দেখার আনন্দ ।
৩।সবথেকে বেশি পেয়েছি বড় আপুর হাতে রান্না করা খাবার । দূর থেকে এসে
রুমে এসে নিজ হাতে খাইতে দিয়ে যেত ।
৪। বড় আপুর পর যার হাতের রান্না বেশি খেয়েছি সে আমার “আকাঙ্ক্ষার কেউ”
পুডিং,সেমাই,সেমাই কাবাব, কালজিরার ভর্তা, মাছ ,মাংস ,হরেক রকমের মিষ্টি
রেসিপি,বিরিয়ানি বিরিয়ানি আর বিরিয়ানি !
৫। শহরের শীতের ভোর একসাথে দেখার আনন্দ ।
৬। প্রাইভেট স্যারদের পচাঁনি (এখান যত ভাবি তত হাঁসি পাই !)
৭। রাতে টিউশন শেষে ক্লান্ত শরীরে প্লাটফর্মের জসীম মামার চায়ে চুমুক দেওয়া
ছিল আরও বড় প্রাপ্তি ।
৮। কলেজ লাইফের বন্ধুরা ছিল আরেকটা বড় প্রাপ্তি । কারো কাছ থেকে
পড়ালেখা শিখতাম তো কাউকে দেখে ম্যানার , নেশা করা ছেলাটার কাছ থেকে
গল্পের ছলে ঠিকই বুঝে নিতাম এতোটা হতাশ হওয়া যাবে না যতোটা হলে
মরণব্যাধি নেশাকে আমার ধরতেই হবে ।
৯। এইচ.এস.সি. টেস্ট পরীক্ষায় রেজাল্ট!পরীক্ষায় চলাকালীন অনেক ভেঙ্গে
পড়েছিলাম ।
১০। এইচ.এস.সি. পরীক্ষাটাই ছিল একটা বড় অভিজ্ঞতা ।
১১। থিওরি পরীক্ষার পর মধ্যরাতে সদর হাসপাতাল থেকে আম্মাকে ইমারজেন্সি
এমবুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া, সারারাত ঢামেক এর এক তলা
থেকে আরেক তলায় থেকে আরেক তলায় ছুটাছুটি করা,জীবনে প্রথম বড় আপুকে
😇😇ধরে কেদেঁছি! নির্ঘুম সেই একরাতে আমাকে যেন অনেক বড় করে দিয়ে গেছে ।
১২। এইচ.এস.সি. এর পর এডমিশন টাইমটা ছিল সবথেবকে বড় অভিজ্ঞতা ।
আমার সামনে যেন পুরো বাংলাদেশেটা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল ।
ফার্মগেটের সেই ২০ টাকার পানিপুরি,১০ টাকার গরুর দুধের ( গরুর নগদে ধৃত
দুধ নাকি পাস্তুরকৃত মিল্ক ভিটা সে ব্যাপারে প্রশ্ন করেও সদুওর পাই নি !
উদ্ভাস-মালেক টাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাচ, লেগুনায় চ্যাপ্টা হয়ে উদ্ভাসের সাপ্তাহিক
পরীক্ষা দিতে যাওয়া এসবকিছু জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে রবে ।
১৩। ১৯’এ আমার বড় অর্জন এইচ.এস.সি. তে প্রাপ্ত জিপিএ-৫.০০, সাধারণ
গ্রেডে বৃত্তি,ভার্সিটিতে সিএসই সাবজেক্ট পাওয়া আর প্রিয় মানুষগুলোর মুখে হাসি ।
এছাড়াও মনে থাকা না থাকা আরো অনেক প্রাপ্তি রয়েছে ।
এবার আসি ১৯’এ কি কি হারালাম :
১। মায়ের আদর(ব্রেইন স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ার পর থেকে আমার কাছে
মায়ের জগৎটা স্থবির হয়ে আছে)
২। কলেজ লাইফের ইতি।
৩। ১৪’ই এপ্রিল ২০১৯!সন্ধ্যা তখন ৭:৩০ আইসিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম
মাত্র, আপুর নাম্বার থেকে ফোন “কোথায় আছস?মামার বাসায় যা, বড় মামা
মারা গিয়েছে..........তোরা ফোন ধরতেছিস না কেন?”
সেদিনের মতো বাকরুদ্ধ আমি আমার বিগত জীবনেও হয় নি। চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এর কিছুদিন আগে মাত্র। ঘুম ঘুম চোখে তখন একবারও ভাবি নি এই বিদায়ই মামাকে দেওয়া শেষ হবে!জীবন থেকে যেন একটা খুঁটি হারিয়ে ফেলেছি!!
মন্তব্যসমূহ