হিপোক্রেসি!কপট হিপোক্রেসি!! 😶
কোচিং-এ ক্লাস নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ করে দেখি ট্রাফিক পুলিশ আর পৌরসভার কিছু কর্মীর(নেতার লোক হতেও পারে) হাঁকডাঁক। অটোরিকশা, রিকশাদের লাঠি দিয়ে কষে মেরে মেরে জ্যাম পরিষ্কার করা হচ্ছে। পৌরসভা থেকে চকচকে গাড়িটা বের হলো,জানালায় লাগানো স্বচ্ছ কালো কাচঁ। এর মাঝে প্রখর রোদে সামনের দিকের জ্যাম সরিয়ে পেছন দিকে বড়সড় জ্যাম লাগিয়ে ফেলেছে। মনে হয় না নেতা মহোদয় উনার কর্মীদের চালকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া গালাগালি আর হাঁকডাঁক শুনতে পেয়েছে কিংবা পিছনের জ্যাম। আমি স্বভাবত রাজনীতি সমাজনীতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। উনাদের আশেপাশে ঘেঁষলে কেমন যেন হাসফাঁস অনুভব করি। কিন্তু কেন জানি গাড়ির বরাবর থাকায় কৌতুহলবশত উঁকি দিলাম। আবছা কালো কাঁচের আলোয় অস্পষ্ট চোখে দেখতে পেলাম সানগ্লাস পরিধান করে ভাবলেশহীন ভাবে বসে আছে নেতা মহোদয়। খুব সম্ভবত এসি গাড়ি,বাইরের টেম্পারেচার এবং জ্যাম সম্পর্কে মহোদয়ের কোনো ধারণাই নেই। কর্মীদের তাড়াহুড়ো আর ছুটোছুটি করে জ্যাম কমিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে নেতা খুব ব্যস্ত, সময়ের পাই টু পাই হিসেব মাশুল করা মানুষ উনি।
এটা শুধু একটা উদাহরণ মাত্র এমন হাজারো নেতা মহোদয় আছে! আচ্ছা এভাবে আশেপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে উনারা কীভাবে বুঝবে যে উনার এলাকায় জ্যামের সমস্যা তীব্র? এর জন্য সংস্কার দরকার, ট্রাফিক পুলিশ দরকার? আপনারা উনাকে রাস্তা ক্লিয়ার করে দিচ্ছেন উনি চলে যাচ্ছেন। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আপনারা আমরা! সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসে জ্যামে পড়তে হয় রাতেও পড়তে হয় মানে সারাদিনরাতই জ্যাম লেগে থাকে এভাবে। এখন যেই নেতা মন্ত্রীরা এসব ঠিক করার কথা তারা তো ভোগান্তির শিকারই হয় না, তারা এই সমস্যা অনুভব করবে কিভাবে। বরং তারা যখন আসে-যায় ফুটপাত সরিয়ে, স্ট্যান্ড সরিয়ে তাদের জন্য রাজপথ তৈরি করে রাখে। তাই তারা তো ভাবতেই পারে জনগণও বুঝি এই রাজপথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে! আসলে তারা তো জানে না এই রাজপথ উনারা যাওয়ার সাথে সাথে চিপাগলিতে পরিনত হয়।
ওইদিন এক এম্বুলেন্সকে দেখলাম এই ৫মিনিটের পথ পাড় হতে ১৫মিনিটেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে জ্যামে। অথচ জ্যামের কাছে অসহায় এম্বুলেন্স তখন অসহায়ত্বের সাইরেন দিয়েই যাচ্ছিল! 😴
তাহলে কী লাভ এতো এতো উন্নয়নের জোয়ারের প্রতিশ্রুতির? কী লাভ নামের সাথে এতো উপসর্গ জনমানুষের নেতা,জনদরদী ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যবহার করার?!
এসির নিচে গোল টেবিলে বসে জ্যাম,ওভার পপুলেশন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্যতার সমস্যা, উন্নয়নের সূচক এসব নিয়ে আলোচনা করে যতটুকু না তোরজোড় অনুভব হবে সমস্যা সমাধান করার তার থেকে বেশি তোরজোড় অনুভব হবে অন দ্যা স্পট সমস্যার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে তা আলোচনা করলে৷ 🙂
নির্বাচনের সময়ই কিছু নেতা মহোদয়দের মাঠে পাওয়া যায় তাও ভোটের স্বার্থে গলাগলি, কোলাকুলি করতে সাধারণ মানুষদের সাথে। তাও তখন নেতা মহোদয় প্রচুর ব্যস্ত, মানুষের সমস্যার কথা শোনার সময় নেই! সমস্যা না শুনেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যাই তাও শর্তপ্রযোজ্য *নির্বাচনে জিতলে!🙂!
হিপোক্রেসি!কপট হিপোক্রেসি!! 😶
আর কিছু দলীয় নেতা কর্মী আর মাইকিং যারা করে তাদের বলছি পোস্টার, ব্যানার,মাইকে তেলবাজিটা একটু কম করবেন! নেতা মহোদয়রা আপনি কি লিখেছেন কিংবা বলছেন তা শুনতে উনারা বসে নাই😐
নেতা মহোদয়রাও মানুষ! ইনারা সবজায়গায় বিচরন করতে পারে না যে পাবলিক প্লেস থেকে ধরে পাবলিক টয়লেট কোনো জায়গা বাদ রাখেন না পোস্টার লাগাতে। নেতা মহোদয়দেরও আপনার মস্তিষ্কের ওজনের সমান ওজনের মস্তিষ্ক আছে, তাই কোনটা তেলবাজি আর কোনটা প্রশংসা উনারা তা ভালো করেই বুঝতে পারে 😶 মু্ঁচকি হাসা ছাড়া এসব দেখে আর কিছুই করার থাকে না উনাদের 🙂🙂
মন্তব্যসমূহ