কোয়ারেন্টিনে হিমু(পার্ট - ০১)

দু'পা জুলিয়ে ছাঁদের কার্নিশে বসে আছে হিমু। কি সুন্দর পূর্নিমার চাঁদ উঠেছে। লকডাউনের কারণে শহরটা একদম ফাঁকা হয়েছে, তাতে যেন প্রকৃতির পুষছে না তাই পূর্ণিমার আলোটুকু ফাঁকা রাস্তাঘাটের মায়াজাল আরও বাড়িয়ে তুলছে। আচ্ছা রূপাকে কি এখন ফোন দিয়ে বলবে, "চলো আজ এই শহরটায় পূর্ণিমা দেখতে বের হই!"।মেয়েটা ওর এই একটা কলের আশায় বসে থাকে। হিমু জানে একথা শোনার সাথে সাথে রূপা তার পছন্দের নীল শাড়িটা পড়ে, চোখে হালকা কাজল, কপালে কালো টিপ দিয়ে ওর জন্য সেজেগুজে বসে থাকবে এমনকি রূপা এটাও জানে হিমু কখনো আসবে না তারপরও ঠিকই সেজেগুজে অপেক্ষা করে। হিমু এমনটা প্রতিবারই করে, কারণ সে সাহস পাই না। মেয়েটা এমনিতেই মায়াবী, মনে হয় দুচোখে দুটো সমুদ্র বহমান,পানি যেন টলমল করছে, একটু পলক ফেললেই জল গড়িয়ে পড়বে। এমন মেয়ের প্রেমে চোখ বন্ধ করে বলা যায় যেকোনো ছেলে পড়তে বাধ্য। কিন্তু হিমুরা সবকিছুর উর্ধ্বে, মুক্ত জীবনটাকে প্রেম ভালোবাসা নামক মায়াজালে বন্দী করতে চাই না।  জগতের সবথেকে নির্মম বাস্তবতা হলো শিল্পীর নিজ হাতে তার শিল্প ধ্বংস করে ফেলা,যেমনটা ভারতের কিছু প্রদেশে দূর্গো পূজার সময় যে শিল্পী মূর্তি বানান তিনি নিজ হাতে তা বিসর্জন দেন। কী অদ্ভুত অদ্ভুত নিয়ম আমাদের। আমরাই ভালোবাসার মায়াজাল বুনি একটু একটু করে আবার এতেই এমনভাবে আঁটকে পড়ি যে নিজেকে আর ছুটাতে পারি না। এসব ভাবতে ভাবতে শুভ্র এসে হঠাৎ পিছন থেকে ডাক দেয়

- " সেই কখন থেকে দেখছি চাঁদের দিকে তাকিয়ে কি বিড়বিড় করছো!   কি এমন ভাবছো?"

হিমু তখন উল্টো প্রশ্ন করে  

- "আচ্ছা মাছেদের কখনো মদ খেতে দেখেছিস?"

- "না তো। কেন ? "

- " তোর একুরিয়ামটাই একদিন দুবোতল মদ ঢেলে দেখিস তো কি হয় "

শুভ্র আর উল্টো কোনো প্রশ্ন করে না কারণ শুভ্র জানে তার হিমু ভাইয়া উল্টো পাল্টা কোনে প্রশ্ন করে না এর  পেছনে নিশ্চয় কোনো কারণ আছে!  একদিন এক্সপেরিমেন্টটা করে দেখতে হবে তো, মদ খাওয়ার পর  তারাও কি মানুষের মতো মাতলামি করে বউ বাচ্চাকে পিটাই নাকি ডলফিন মাছের মতো খেলা দেখানো শুরু করে! আচ্ছা, সে মদ পাবে কোথায়? হিমুকে প্রশ্নটা করতে যাচ্ছিল কিন্তু করতে গিয়েও আর করলো না প্রশ্নটা। সে বললো 

- "ভাইয়া  চলো খেতে আসো, তোমার খালা তোমার জন্য তোমার ফেবারিট ডিশ রান্না করেছে। "

হিমু চুপচাপ চাঁদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে তারপর শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো 

- " চল তার আগে শহরের অলিগলির পূর্নিমা খেয়ে আসি। "

শুভ্র কিছুটা অবাক হয়ে বললো, 

- " শহরে এখন লকডাউনের চলছে, পুলিশ আছে, এখন রাস্তায় নামলে আমাদের চোর না হয় ডাকাত ভাববে। তুমি জানো না সন্ধ্যা ছয়টার পর বাসা থেকে বের হওয়া মানা?"

- " মন্দ কি?  তাতে তো আর ভালো হয়, তাদের সাথে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে আসা যাবে!  কোয়ারেন্টিনে সারাদিন বসে বসে আমরা বিরক্ত হচ্ছি আর ওইদিকে সাধারণ মানুষকে  সচেতনতা বুঝাতে গিয়ে ওরা বিরক্ত হচ্ছে, তারপরও আমরা যে যার জায়গা থেকে ডিউটি পালন করে যাচ্ছি!  এইদিকে স্টে হোম স্টে হোম যোদ্ধা আমরা আর অন্যদিকে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ওরা৷ 

যখন আমাদের আটকিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে কোথায় যাই এতো রাতে,মাস্ক কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি তখন না হয় হুট করে উল্টো প্রশ্ন করে বলা যাবে 

- " রহিম ভাই,সেহেরিটা কি আজও দুটো পাউরুটির টুকরো আর দুটো কলা দিয়েই করবেন? আপনার স্ত্রীর এখন কি অবস্থা?  আইসিইউতেই শুয়ে আছে করোনার উপসর্গ নিয়ে!!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest